| প্রচ্ছদ

প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় বাবাসহ নারী পুলিশ কারাগারে

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৪৮ বার

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় মিমি আক্তার (২০) নামে এক নারী পুলিশ সদস্য ও তার বাবাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারিক হাকিম আল-ফয়সাল ওই নারী পুলিশ সদস্যের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান। এ সময় মিমির বাবা মন্নান সিকদারকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

মিমি আক্তারের বাড়ি পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী গ্রামে। তিনি কনস্টেবল পদে ঢাকা মিল ব্যারাক পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন।

প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মিমি ও তার বাবা-মাকে আসামি করে গত বছর মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন উপজেলার বেতমোর গ্রামের নুরুল ইসলাম ফরাজী। আদালত মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত করে আদালতে যে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন সেখানে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, নুরুল ইসলাম ফরাজীর সিঙ্গাপুর প্রবাসী ছেলে ফিরোজ হোসেনের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে পাত্রী দেখা হয়। সেই সূত্র ধরে মিমি আক্তারকে পছন্দ করে উভয়পক্ষ পারিবারিকভাবে বিয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে। পরে ছেলের বাবা-মা কাউখালীর শিয়ালকাঠী মেয়ের বাড়িতে গিয়ে স্বর্ণালঙ্কার পরিয়ে এনগেজমেন্ট সম্পন্ন করেন। এরপর উভয় পরিবারের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে, ছেলে-মেয়ের মধ্যে মোবাইলে যোগাযোগ শুরু হয়। মেয়েকে নতুন মোবাইল ফোন কিনে দেয় ছেলে। মেয়ের পড়াশোনা ও চাকরির কথা বলে ছেলের কাছ থেকেও নেওয়া হয় টাকা। মেয়ে ও মেয়ের মা-বাবা ছেলের কাছ থেকে মালামালসহ চার লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়। এদিকে মিমির পুলিশে চাকরি হয়। সিঙ্গাপুর থেকে ফিরোজ দেশে এসে মিমিকে বিয়ে করতে চাইলে মিমি বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। পরে মেয়ের বাড়িতে গিয়ে মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কার, বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা ফেরত চাইলে মেয়ে ও মেয়ের বাবা-মা তা দিতে অস্বীকার করেন এবং মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন  জানান, বৃহস্পতিবার আসামিরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত মিমির মা খাদিজা বেগমের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে মিমি ও তার বাবা মন্নান সিকদারের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মন্তব্য