| প্রচ্ছদ

চন্ডিজান গ্রামজুড়ে শোকের মাতম

বগুড়ায় করতোয়া নদীতে ডুবে যাওয়া সেই ভাতিজার লাশ উদ্ধার

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
পঠিত হয়েছে ৭৫ বার

বগুড়ার শেরপুরে করতোয়া নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ডুবে মারা যাওয়া বাবা-মেয়ের পর নদীতে নিখোঁজ হওয়া ভাতিজা শিশু অরুপ কুমার দাসের (৬) লাশও উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে ডুবে যাওয়ার স্থান থেকে প্রায় চার কিলোমিটার ভাটিতে ছোট ফুলবাড়ি গ্রামের বৈরাগী দহ থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা তার লাশ উদ্ধার করে। সে গাড়িদহ ইউনিয়নের চন্ডিজান গ্রামের উজ্জল কুমার দাসের ছেলে।
শেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা মো. রতন হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত বৃহস্পতিবার (২৯আগস্ট) দুপুরে চন্ডিজান গ্রামের চন্দন কুমার দাস তার মেয়ে কিরণমালা ও ভাতিজা অরুপ কুমার দাসকে নিয়ে মাছ ধরতে করতোয়া নদীতে নেমে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন। এরপর ঘন্টাব্যাপি অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ তিনজনের মধ্যে দুইজনের বাবা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু চন্দনের ভাতিজা পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়। ওইদিন রাত প্রায় ৮টা পর্যন্ত ফায়াস সার্ভিসের ডুবুরিদল ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে অরুপ কুমার দাসকে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়ে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়। পরদিন শুক্রবার সকাল থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে তাদের ডুবুরিদল। অবশেষে দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় চার কিলোমিটার ভাটিতে ছোট ফুলবাড়ী গ্রামের বৈরাগীদহ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ শিশুটির লাশ উদ্ধারের পর ফায়ার সার্ভিসের টানা ২৪ঘন্টার ওই উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয় বলে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান। এদিকে শুক্রবার বিকেলেই নিহত ওই তিনজনের সৎকার সম্পন্ন করা হয়েছে। চন্ডিজান গ্রামস্থ করতোয়া নদীর তীর সংলগ্ন চন্ডিজান মহাশ্মশানে এক সঙ্গে তিনজনের সৎকার করা হয়। চন্দনের লাশ দাহ করা হয় এবং দুই ভাই বোন কিরনমালা ও অরুপ কুমারকে একই শ্মশানে সমাধি দেয়া হয়।
অপরদিকে এক বাড়িতেই একইসঙ্গে তিনজন করতোয়া নদীতে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনায় পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কান্নার রোল উঠেছে চন্ডিজান হিন্দুপাড়ায়। আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে চন্দনের স্ত্রী আর অরুপের বাবা-মায়ের আর্তনাদে। মর্মান্তিক এই মৃত্যু কেউই মেনেও নিতে পারছেন না। এমনকি শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষাও খুঁজে পাচ্ছে না তাঁরা।

 

মন্তব্য