| প্রচ্ছদ

খালেদা জিয়ার মুক্তি হলে গণতন্ত্র মুক্ত হবে-এমপি সিরাজ

স্টাফ রিপোর্টার
পঠিত হয়েছে ৪৬ বার। প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ।

বগুড়া জেলা বিএনপির আহবায়ক ও বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে হত্য করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপির এখন একমাত্র লক্ষ্য নির্বাসিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও খালেদা জিয়ার মুক্তি। তাই খালেদা জিয়ার মুক্তি হলে দেশের গণতন্ত্র মুক্ত হবে। বিএনপির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার সকালে বগুড়া জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে তিনি একথা বলেন। সমাবেশ পরিচালনা করেন বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের কেএম খায়রুল বাশার। এম সিরাজ বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাবন্ধী করে রাখার মাধ্যমে সরকার প্রমাণ করেছে তারা গণতন্ত্রকে বন্ধি রাখতে চায়। কারণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীক। যিনি সারাজীবন গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে আন্দোলন সংগ্রাম করে গেছেন আজকে তাকে এই সরকার কারারুদ্ধ করে রেখেছে। যেকোনো মুহূর্তে জনতার ঢেউ রাস্তায় উত্তাল হয়ে উঠবে। অবৈধ সরকার বলেই বর্তমান অবৈধ শাসকগোষ্ঠী জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে মাটিচাপা দিয়ে বিএনপিসহ সকল বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে একদলীয় বাকশালী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। কিন্তু জনগণ আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর এই অলীক স্বপ্ন কোনোদিনই বাস্তবায়িত হতে দেবে না। দেশের আপামর জনগণের আস্থাভাজন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করে মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে জাতীয়তাবাদী শক্তি দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ। আমরা অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, ‘বর্তমান দুঃসময়ে জনগণকে সংগঠিত করার কোনো বিকল্প নেই। দেশ আজ দুঃশাসনকবলিত। মানুষ ভয়াবহ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। গুম-খুনের আতঙ্ক মানুষের নিত্যসঙ্গী। আইন, বিচার, প্রশাসনকে সরকার কব্জার মধ্যে রাখার চেষ্টায় মরিয়া। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বেআইনি কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। ফলে সমাজে দেখা দিয়েছে বিপজ্জনক বিশৃঙ্খলা। খুন, নারী-শিশু নির্যাতন, অপহরণ, গুপ্তহত্যা ইত্যাদি অনাচারের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ সরকার যেখানে জনগণের প্রতিপক্ষ সেখানে মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা থাকতে পারে না। জনগণের নিরাপত্তা বিধানের জন্যই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে।’ ‘দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে।’ কারাবন্দি দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন বেগবান করতে হবে। ‘তিনি (খালেদা জিয়া) প্রতিহিংসার শিকার। কারণ তিনিই গণতন্ত্রের প্রতীক এবং জনগণের নাগরিক ও বাকব্যক্তি স্বাধীনতার পক্ষে প্রধান কণ্ঠস্বর। পাশাপাশি দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমি বগুড়াবাসীসহ দলের সকল নেতাকর্মিকে বিএনপির পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য আহ্বান জানাই। ১৯৭৮ সালের এই দিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশ ও জাতির ঐতিহাসিক প্রয়োজনে বিএনপি নামক একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন। যে দলের অনুসারীরা হবেন বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, ধর্মীয় মূল্যবোধের ধারক ও বাহক। দেশপ্রেমে উজ্জীবিত সৎ ব্যক্তিত্ব ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ধারণায় অনুপ্রাণিত। তিনি নিজেও এসব গুণের অধিকারী ছিলেন। জিয়াউর রহমানের বিএনপি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে শুরু হয় উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি। রাজনীতিতে আসার আগেও এই মহান নেতার একটি ঘটনাবহুল জীবন রয়েছে। সৈনিক জীবন থেকে শুরু করে স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধ, রাষ্ট্র পরিচালনা সব ক্ষেত্রেই তার একটি সমুজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। যা জাতি কোন দিন ভুলতে পারবে না। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট একেএম সাইফুল ইসলাম ও ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল। বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আলী আজগর তালুকদার হেনা, জয়নাল আবেদীন চাঁন, রেজাউল করিম বাদশা, আব্দুর রহমান, খাজা ইফতেখার আহম্মেদ, একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির, মাহবুবুর রহমান বকুল, এম আর ইসলাম স্বাধীন, হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, মীর শাহ আলম, তৌহিদুল আলম মামুন, সহিদ উন নবী সালাম, শেখ তাহা উদ্দিন নাইন, এনামুল কাদের এনাম, ওমর ফারুক খান, ভিপি অধ্যাপিকা শামিমা আকতার পলিন, সাইদুজ্জামান শাকিল, মনিরুজ্জামান মনির। আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি নূর আফরোজ বেগম জ্যোতি, লাভলী রহমান, মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, আলী হায়দার তোতা, জেলা যুবদল আহবায়ক খাদেমুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক এবিএম মাজেদুর রহমান জুয়েল, ছাত্রদলের সভাপতি আবু হাসান, সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যানসহ থানা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্য