| প্রচ্ছদ

গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে গণমাধ্যমে হাজির সমীচীন নয়: হাইকোর্ট

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৩৭ বার। প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ।

পুলিশের প্রতিবেদন দাখিলের আগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির বা মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পর্কে বক্তব্য উপস্থাপন সমীচীন নয় বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। 

এ বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়নের পক্ষে মত দিয়েছেন আদালত।

রবিবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিনের বিষয়ে প্রকাশিত রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়।

এদিন বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী মিন্নিকে দেওয়া জামিন সংক্রান্ত রায় প্রকাশিত হয়েছে।
এ রায়ে আদালত বলেন, ‘ইদানীং প্রায়ই লক্ষ করা যায়, বিভিন্ন আলোচিত অপরাধের তদন্ত চলার সময় পুলিশ-র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করার আগেই গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করা হয়, যা অনেক সময় মানবাধিকারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অমর্যাদাকর এবং অ-অনুমোদনযোগ্য।’

আদালত আরো বলেন, ‘আমাদের সবাইকে স্মরণ রাখতে হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত অভিযুক্ত বিচার প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত না হচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে বলা যাবে না যে তিনি প্রকৃত অপরাধী বা তার দ্বারাই অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। গণমাধ্যমের সামনে গ্রেপ্তার কোনও ব্যক্তিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা সংগত নয় যে, তার মর্যাদা ও সম্মানহানি হয়। তদন্ত চলাকালে অর্থাৎ পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের আগে গণমাধ্যমে গ্রেপ্তার কোনো ব্যক্তি বা মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পর্কে এমন কোনো বক্তব্য উপস্থাপন সমীচীন নয়, যা তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে বিতর্ক বা প্রশ্ন সৃষ্টি করতে পারে।’

মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়ে বরগুনার এসপি’র করা সংবাদ সম্মেলন সম্পর্কে আদালত বলেছেন, ‘একজন আসামি রিমান্ডে থাকাবস্থায় আইনের নির্ধারিত নিয়মে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেওয়ার আগেই পুলিশ সুপারের এ ধরনের বক্তব্য তদন্ত সম্পর্কে জনমনে নানাবিধ প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তার বক্তব্যের বিষয় যদি ধরেও নেওয়া হয় সত্য, তাহলেও গণমাধ্যমের সামনে এ পর্যায়ে প্রকাশ ছিল অযাচিত এবং ন্যায়নীতি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পরিপন্থী। একজন দায়িত্বশীল অফিসারের কাছ থেকে এ ধরনের কাজ প্রত্যাশিত ও কাম্য ছিল না।’

আদালত আরও বলেন, ‘এ মামলার তদন্ত যেহেতু চলমান, সে কারণে এ বিষয়ে আদালত এই মূহূর্তে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করা থেকে বিরত থাকছেন। তদন্ত শেষে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল হলে পুলিশের মহাপরিদর্শক এ বিষয়ে সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।’

রায়ের একটি অংশে আদালত তার অভিমত দিয়ে বলেন, ‘গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে উপস্থাপনের আগে গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন এবং কোনও মামলার তদন্ত চলার সময় তদন্ত বিষয়ে কতটুকু তথ্য গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করা সমীচীন হবে, সে সম্পর্কে একটি নীতিমালা অতি দ্রুততার সঙ্গে প্রণয়ন করা বাঞ্ছনীয়। এই নীতিমালা প্রণয়ন ও যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ প্রদান করা হলো।’

২৯ আগস্ট মিন্নির জামিনের বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ বলে ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। তবে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মিন্নিকে মিডিয়ার সঙ্গে কথা না বলার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

মন্তব্য