| প্রচ্ছদ

‘ভুল করে’ হেলমেট, বেল্ট দিয়ে জয়পুরহাটে ছাত্রলীগ নেতাকে পেটাল পুলিশ

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৭৯ বার। প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামকে বেল্ট, হেলমেট, হ্যান্ডকাফ দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে।

আহত জহুরুলকে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত জহুরুল পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জী ইউনিয়নের উঁচনা গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে।

আহত জহুরুল, তার স্বজন ও এলাকাবাসী হাবিবুল বাশার, লাইজুর রহমানসহ অনেকে জানান, রবিবার বিকেলে বাড়ির পাশে একটি খেলার মাঠে জহুরুলসহ কয়েকজন খেলতে যাচ্ছিল। এ সময় ডিবি পুলিশের এস.আই আমিরুল ও তার সঙ্গে থাকা সোর্সসহ কয়েকজন তাকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে হেলমেট, বেল্ট এবং হ্যান্ডকাফ দিয়ে পেটায়। এতে তার মাথা ও মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

তারা জানান, বেধড়ক মারধরের পর টেনে ডিবি পুলিশ জহুরুলকে মাইক্রোতে তুলতে চাইলে গ্রামবাসী এগিয়ে আসে। এরপর তারা জহুরুলকে ছেড়ে দেয়। মারধরে জহুরুলের দাঁতের মাড়িসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতবিক্ষত হয়।

এলাকাবাসী ডিবি পুলিশকে জহুরুলের অপরাধ জানতে চাইলে ডিবির এস.আই আমিরুল ঘটনাস্থল দ্রুত ত্যাগ করে। ঘটনাস্থলেই অন্যান্য ডিবি পুলিশ সদস্যরা বলেন, অন্য এক আসামির নামের মিল থাকায় ভুলবশত তাকে ধরা হয়েছিল বলে দুঃখ প্রকাশ করেন। তারপর তাকে অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করালে অবস্থার অবনতি হলে রাতে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

এলাকাবাসী আরো জানান, জহুরুলের নামে মাদক বা অন্য মামলা নেই। তবে কেন তাকে এভাবে মারধর করা হলো? আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

পাঁচবিবি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আকরাম হোসেন জানান, জহুরুল নামে অন্য আসামিকে ধরতে গিয়ে অন্যায়ভাবে জহুরুলকে ধরে বেধড়ক মারপিট করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিচার দাবি করছি।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকারিয়া রাজা বলেন, একটি এলাকায় জহুরুল নামের বহুলোক থাকতে পারে নাম, ঠিকানা, বাবা ও মায়ের নাম শনাক্ত না করে তাকে ডিবি পুলিশ ও বহিরাগত সোর্সকে দিয়ে বেধড়ক মারধর করার দায়ভার পুলিশকেই নিতে হবে।

ডিবির এস.আই আমিরুল হক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় দু’জন অফিসারসহ ছয় পুলিশ সদস্য নিয়ে মাদক কারবারিকে ধরতে গেলে জহুরুল তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে, এমন সন্দেহে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। মাদক বিরোধী অভিযানকে অন্যদিকে ঘোরানোর জন্য এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমাদের সঙ্গে কোনো সোর্স ছিল না।

এ ব্যাপারে জয়পুরহাট পুলিশ সুপার সালাম কবির বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য