| প্রচ্ছদ

রোহিঙ্গাদের মোবাইল সেবা বন্ধের নির্দেশনা

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ২১ বার

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মোবাইলসেবা বন্ধের জন্য অপারেটরদের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।  শনিবার যুগান্তর অনলাইনে ‘অবৈধভাবে সিম ব্যবহার করে সংগঠিত হচ্ছে রোহিঙ্গারা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর আজ এই নির্দেশনা দিল সংস্থাটি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের নির্দেশের পর বিটিআরসি এ পদক্ষেপ নিয়েছে। বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. জাকির হোসেন খাঁন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে রোববার অপারেটরদের চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বিটিআরসির নির্দেশনার চিঠিতে মোবাইল অপারেটরদের বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গুরুত্ব বিবেচনা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসুরক্ষার স্বার্থে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যাতে মোবাইল সুবিধাদি না পায় এ বিষয়টি নিশ্চিতের জন্য সংস্থাসমূহকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকারী কমিটি এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে কমিশন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যাপক হারে সিম/রিম ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য পেয়েছে।

‘এমতাবস্থায়, ‌আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনো ধরনের সিম বিক্রি, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে সিম ব্যবহার বন্ধ তথা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মোবাইল সুবিধা প্রদান না করা সংক্রান্ত সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করে বিটিআরসিকে অবহিতকরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হল।’

 প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ৩৪টি ক্যাম্পে আশ্রিত ৭ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা ব্যবহার করছে মোবাইল ফোন। শরণার্থী আইন অনুসারে উদ্বাস্তুরা অবৈধভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারলেও কয়েকটি এনজিওর কারণে এ পর্যন্ত ক্যাম্পে মোবাইল ফোন উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়নি। নানা অপরাধ দমন করতে সরকার রোহিঙ্গা শিবিরে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলেও এর আগ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

নেটওয়ার্ক বন্ধকরণ সিদ্ধান্তের বিরোধিতাকারী কয়েকটি এনজিও’র কারণে ৭ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা ব্যবহার করছে মোবাইল ফোন। রোহিঙ্গাদের হাতে থাকা মোবাইলের নেটওয়ার্ক বন্ধ না হওয়ায় শিবিরে প্রতিনিয়ত নানা অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আশ্রয় শিবিরে ইতিপূর্বে মোবাইল ফোনে বেআইনি কর্মকাণ্ড ঘটছে মর্মে নিশ্চিত হয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে মোবাইল অপারেটরগুলোর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। ওই চিঠিতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যেন মোবাইল নেটওয়ার্ক সুবিধা না পায়, সেজন্য অপারেটরগুলোকে ব্যবস্থা নিতে বলেছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য