| প্রচ্ছদ

ভারতের সঙ্গে সামরিক সংঘাত শুরু করবে না পাকিস্তান : ইমরান খান

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৩৭ বার। প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, ভারত-পাকিস্তান উভয় দেশই পারমাণবিক অস্ত্রধারী এবং উত্তেজনা বাড়তে থাকলে বিশ্ব শান্তি হুমকির মুখে পড়তে পারে। যে কারণে পাকিস্তান কখনই সামরিক সংঘাত শুরু করবে না।

তিনি বলেছেন, ‘যুদ্ধের কথা বলার চেয়ে দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং জলবায়ু পরিবর্তনের আসন্ন হুমকির মতো গুরুতর কিছু সমস্যা সমাধানের জন্য একটি যৌথ কৌশলে সমর্থন করেছিল দুই দেশ।’

‘প্রধানমন্ত্রীর অফিসের দায়িত্ব নেয়ার পর আমি পাক-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি আশ্বস্ত করেছিলাম যে, ভারত যদি এক পা এগিয়ে আসে, তাহলে আমরা দুই পা এগিয়ে যাবো। আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলেছিলাম এবং ৭২ বছরের দীর্ঘ বিবাদমান কাশ্মীর সংকট আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছিলাম।’

ইসলামাবাদের গভর্নর হাউসে তিনদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক শিখ সম্মেলনের শেষ দিন সোমবার এসব কথা বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি বলেন, গত এক বছরে ভারত এসবের জবাবে বিভিন্ন ধরনের শর্ত দিয়েছে, আর এমনভাবে এটি করছে যেন তারা একটি সুপার পাওয়ার এবং একটি দারিদ্র্য দেশের সঙ্গে দর কষাকষি করছে।

পাক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ কোনো সমস্যার সমাধান নয় এবং যারা এটি চায় তারা বোকা। ভারতের মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে ধরনের নিপীড়ন চালানো হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য শিখ সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান ইমরান খান।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধ সমস্যার সমাধানের চেয়ে আরো বেশি সংকট এবং সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। অতীতে যারা যুদ্ধ চেয়েছিল, তারা বছরের পর বছর ধরে অনুশোচনা করেছেন।

মুসলিমদের প্রতি অমানবিক আচরণ ও মুসলিম হত্যার ঘটনার ভারতে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) নিন্দা করেছেন ইমরান খান। তিনি বলেছেন, বিশ্বের কোন ধর্মই নারী, শিশুসহ নিরীহ কোনো মানুষের ওপর অবিচার এবং বর্বরতার সুযোগ দেয়নি। আরএসএস ভারতকে তাদের সর্বগ্রাসী ও বর্ণবাদী আদর্শের 
এমন এক পর্যায়ে যাচ্ছে; যেখান থেকে ফেরার কোনো সুযোগ নেই।

গত ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর থেকে ২৭ দিন ধরে জারিকৃত কারফিউয়ের নিন্দা জানিয়েছেন ইমরান খান। তিনি বলেছেন, ভারত নিন্দনীয় এই কারফিউয়ের মাধ্যমে সেখানকার ৮০ লাখ মানুষকে গৃহবন্দি করে রেখেছে। কাশ্মীরিরা সেখানে খাবার, পানি ও ওষুধ পাচ্ছেন না। অধিকৃত কাশ্মীর এবং ভারতে মুসলিমদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন বন্ধ করতে নয়াদিল্লিকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল।

সূত্র : ডন।

মন্তব্য