| প্রচ্ছদ

নওগাঁয় গুটার বিলে নৌকা বাইচ

নওগাঁ প্রতিনিধি
পঠিত হয়েছে ৩৬ বার

নওগাঁর ঐতিহ্যবাহী গুটার বিলে গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যাওয়া নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সদর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা গুটার বিলে শত বছরের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে বুধবার বিকেলে স্থানীয় ‘হাঁসাইগাড়ী ছাত্র কল্যাণ সংস্থা’ এর আয়োজন করে। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিলের প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তায় নানা বয়সী প্রায় ৫-৬ হাজার নারী-পুরুষের সমাগম হয়। পরিবার-পরিজন নিয়ে নেচে-গেয়ে এই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। প্রতিযোগীতায় ৬টি নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগীতায় প্রথম সদর উপজেলার কুজাগাড়ী ও দ্বিতীয় হয় হাঁসাইগাড়ি গ্রাম। পরে বিজয়ীদের মাঝে এলইডি টেলিভিশন পুরস্কার প্রদান করা হয়।
জানা যায়, প্রত্যন্ত এলাকা গুটার বিল। যেখানে বছরের বেশির ভাগ সময় পানি থাকে। এ বিলের মাঝ দিয়ে এঁেকবেঁকে বয়ে গেছে পাকা সড়ক। সড়কটি পাকা হওয়ায় এবং রাতে সোলার সিস্টেমের বাতি থাকায় বিলের সৌন্দর্য আরো একধাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। যেন এক অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নয়নাভিরাম দৃশ্য।
মহান স্বাধীনতার পর থেকে প্রতি বছর এই বিলে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা হয়ে আসছিল। গত ১০-১২ বছর পূর্ব থেকে ঢিলে ঢালা ভাবে এ নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০১০ সাল থেকে ‘হাঁসাইগাড়ী ছাত্র কল্যাণ সংস্থা’ উদ্যোগে জাঁকজমক ভাবে এ প্রতিযোগিতা হয়ে আসছে। নৌকা বাইচ দেখতে নওগাঁ সদর, মান্দা ও রানীনগর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের দুপুর পর থেকে গুটার বিলে ছোট-বড় অসংখ্য নৌকা আসতে থাকে। সেখানে কয়েকশ নৌকা জমায়েত হয়। এছাড়া বিলের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া তিন কিলোমিটার রাস্তায় প্রায় ৫-৬ হাজার সব বয়সী নারী-পুরুষের সমাগম হয়। পরিবার-পরিজন নিয়ে বিকেল থেকে সন্ধ্যায় পর্যন্ত নেচে-গেয়ে আনন্দ উপভোগ করেন তারা। নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে হাঁসাইগাড়ী, চুয়ারপাড়া, হাতাস, কুজাগাড়ী, ভীমপুর ও পাঠাকাঠাসহ কয়েকটি গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে ২-৩দিন ধরে যেন ঈদের আনন্দ বয়ে আসে। বাড়িতে মেয়ে-জামাই ও আত্মীয়দের আগমন ঘটে। 
আবহমান গ্রাম বাংলার অতি প্রাচীন কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও নিজস্বতা ধরে রাখতে এবং হারানো ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ খেলার আয়োজন। মাঝিরা নানা বর্ণের পোশাক ও নৌকা বিচিত্র সাজে সজ্জিত দৃষ্টি নন্দন করা হয়। নৌকায় কাঁশি বাজিয়ে, মাঝিদের একত্র জয়ধ্বনিতে এবং গানের তালে, ঝোকে ঝোকে বৈঠার টানে অন্য সব নৌকাকে পেছনে ফেলে নিজেদের নৌকাকে সবার আগে যাওয়ার চেষ্টা। 
নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন। 
এছাড়া জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নির্মল কৃষ্ণ সাহা, জেলা মহিলা লীগের সভাপতি পারভীন আক্তার, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম রফিক, ভাইস চেয়ারম্যান ইলিয়াস তুহিন রেজা, আ’লীগ নেতা শাহপরান নয়ন, অফিসার ইনচার্জ সোহরাওয়ার্দী হোসেন, জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাতিসা আলম, ছাত্র কল্যাণ সংস্থার সভাপতি জয়নুল আবেদিন জয়নাল, সাধারন সম্পাদক মাসুদ রানাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন বলেন, পড়াশুনার জন্য দীর্ঘ সময় দেশের বাহিরে ছিলাম। যুক্তরাজ্য ও লন্ডনে বাঙ্গালি যারা থাকতেন তারা নৌকা বাইচের আয়োজন করতেন। সেখানকার অনুভূতিটা ছিল ভিন্নরকম। এই প্রথম দেশে প্রিয়জন ও এলাকার মানুষের সাথে নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা দেখে বেশ আনন্দ উপভোগ করেছি। 
তিনি আরো বলেন, পড়াশুনার পাশাপাশি নৌকাবাইচসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমুলক ব্যবস্থা থাকলে মাদক থেকে যুবকরা দুরে থাকতে পারবেন। কারণ অলস মস্তিস্ক শয়তানের দোসর। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সুস্থধারা প্রতিযোগিতা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়–ক এমন প্রত্যাশা।

 

মন্তব্য