| প্রচ্ছদ

বগুড়ায় ‍পুলিশেরে উদ্যোগে যুবা সমাবেশ: লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজের অঙ্গীকার

মুজাহিদুল ইসলাম জাহিদ
পঠিত হয়েছে ৫৬ বার

জেন্ডার ইকুয়ালিটি বা লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতসহ বাল্য বিবাহ এবং নারী নির্যাতন বন্ধে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে একযোগে কাজ করবে বগুড়ার যুবারা। বুধবার বগুড়ায় জেলা পুলিশ আয়োজিত যুব সমাবেশে তারা এ অঙ্গীকার করে। পুলিশ লাইন্স অডিটারিয়ামে অনুষ্ঠিত সমাবেশ প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়ার জেলার প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সমাবেশের উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা। পরে তিনি ওই সমাবেশে সভাপতিত্বও করেন।
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) সহায়তায় অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী যুব সমাবেশে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এতে তাদেরকে লিঙ্গ বৈষম্য কি এবং কিভাবে তা দূর করা যায়, বাল্য বিবাহ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যুবারা কিভাবে কাজ করতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ পুলিশের এ ধরনের আয়োজনের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘বাল্য বিবাহ এ ধরনের অনাচার রোধে যুবাদের সম্পৃক্ত করাটা খুবই কার্যকর একটি পদক্ষেপ। এ কাজে যুবারা পুলিশের আহবানে সাড়া দিয়ে যে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী হয়েছে-এটা আমাদের সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। আমরা তাদের সাফল্য কামনা করি।’
যুব সমাবেশের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা জানান, এ জেলার যুব সমাজ নিজ নিজ এলাকায় বাল্য বিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে স্বপ্রণোদিতভাবে কাজ করে থাকে। তাদের নিয়ে গত এক বছরে পুলিশের পক্ষ থেকে ১৪৮টি জনসচেতনতা মূলক কর্মকা- পরিচালনা কররা হয়েছে। এই যুবারাই এখন নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাই তাদের প্রশিক্ষণের জন্যই পুলিশের পক্ষ থেকে যুবাদের নিয়ে লিঙ্গ সমতা বিষয়ক যুব সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী যুবাদের সমাবেশে বগুড়ার প্রতিটি থানায় নারী ও শিশু হেল্প ডেস্ক প্রতিষ্ঠার কথা জানিয়ে বলা হয়, এই প্রথম চালু করা ওই ডেস্কগুলোতে ১২ ধরনের এক হাজার ৬৫০টি অভিযোগ এসেছিল। এর মধ্যে মাত্র ৩৫০টি অভিযেগে মামলা হয়েছে। বাকি ১ হাজার ৩০০ অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখার কারণে মামলা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ওই ডেস্কের সফলতার প্রসঙ্গ টেনে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক সচেতনামূলক কর্মসূচীগুলোতে আমরা যে সারা পেয়েছি তা বগুড়ার মত সব জেলায় চালু করা গেলে অনেক উপকার পাওয়া যাবে। নারী শিশু বান্ধব পুলিশিং বলতে আমরা যা বুঝি তা উইমেন এন্ড চিলড্রেন হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব। ’
অনুষ্ঠানের অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পদোন্নতিপাপ্ত পুলিশ সুপার সফিজুল ইসলাম ও আব্দুল জলিল, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) তাপস কুমার, ইউএনপিএ’র ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর মোছাঃ তামিমা নাসরিন, পুলিশ লাইন্স স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ শাহাদত আলম ঝুনু ও বগুড়া সদর থানার ওসি বদিউজ্জামান।

 

মন্তব্য