| প্রচ্ছদ

পরিবারকে সুখে রাখতে ভাড়াটে খুনি দিয়ে নিজেকেই হত্যা!

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৪৭ বার

মানুষকে ঋণ দিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। ঋণ আদায় করতে না পারায় প্রায় নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলেন। ভর করেছিল হতাশাও। এমন পরিস্থিতিতে নিজের পরিবারকে বাঁচাতে ভাড়াটে খুনে দ্বারা নিজেকেই হত্যা করলেন এক ভারতীয় ব্যক্তি।

ইন্ডিয়া টুডে জানায়, বলবীর খারোল (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে খুনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত রাজবীর সিংহ আর সুনীল যাদবকে জেরা করে অবিশ্বাস্য এক ঘটনার মুখোমুখি হন পুলিশ কর্মকর্তারা।

দুই খুনি থেকে পুলিশ পেয়ে যায় বলবীরের কল রেকর্ড আর সিসিটিভি ফুটেজ। রাজবীর আর সুনীলের দাবি, বলবীরই তাদের নিয়োগ করেছিল নিজেকে খুন করানোর জন্য।

জানা যায়, রাজস্থানের ভিলওয়ারা জেলার বাসিন্দা বলবীর সুদে ঋণ দেওয়ার কারবার করতেন। ২০ লাখ রুপি ধার দেন তিনি নানা জনকে। কিন্তু  ছ’মাসে কেউ এক টাকাও ফেরত দেয়নি তাকে। এতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন ৩৮ বছর বয়সী এই ব্যক্তি।

পরিবারের কথা চিন্তা করে বলবীর একটি পন্থা বেছে নেন। মাসখানেক আগে বেসরকারি ব্যাংক থেকে ৫০ লাখ রুপির একটা জীবনবীমা করালেন। প্রথম মাসের প্রিমিয়ামও জমা দিলেন।

এরপর নিজেকেই পৃথিবী থেকে সরাতে পরিকল্পনা করতে থাকলেন। কারণ বলবীর মারা গেলে ওই ৫০ লাখ রুপি পুরোটাই পাবে তার পরিবার। এই টাকা দিয়ে তার স্ত্রী-সন্তানেরা সুখেই বাকিটা জীবন পার করে দিতে পারবে।

সুনীল ও রাজবীর পুলিশকে জানায়, বলবীর প্রথমে চেয়েছিলেন পরিকল্পিত দুর্ঘটনায় নিজের মৃত্যু ঘটাতে। কিন্তু এতে তিনি ব্যর্থ হন। শেষমেশ নিজেকে হত্যা করতে ভাড়া করলেন রাজবীর আর সুনীলের। ৮০ হাজার রুপিতে এই দুই খুনীর সঙ্গে চুক্তি করেন বলবীর।

২ সেপ্টেম্বর বলবীর দুই খুনিকে অগ্রিম ১০ হাজার রুপি দিলেন। তারপর তিনজনে মাংরোপ এলাকার একটা ফাঁকা জায়গায় চলে গেলেন।

বলবীর তাদের জানান, বাকি টাকাটা তার পকেটে আছে। তাকে খুন করে যেন টাকাটা ওরা নিয়ে নেয়। নির্দেশ মতোই রাজবীর বলবীরের হাত-পা বেঁধে ফেলল। সুনীল শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে।

বলবীরের হত্যাকাণ্ডের সূত্র ধরে গত সোমবার সুনীলদের গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার পুলিশ সুপার হরেন্দ্র মাহাওয়ার সংবাদমাধ্যমকে পুরো ঘটনাটি জানান।

মন্তব্য