| প্রচ্ছদ

আশি হাজার দর্শকের সামনে আলিবাবা থেকে জ্যাক মা’র অশ্রু সজল বিদায়

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৪২ বার। প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ।

চীনা অনলাইন শপ আলিবাবার চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে দিলেন প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা। মঙ্গলবার জ্যাক মায়ের বিদায়ে আয়োজন করা হয় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। এতে গিটার হাতে পপ সং গেয়ে মঞ্চ মাতান এই বিজনেস টাইকুন।

মার্কিন বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস জানায়, জ্যাক মায়ের বিদায়ে তার ৫৫ তম জন্মদিন পালন করে আলিবাবা। প্রায় ৮০ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে একটি স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয় ফায়ার ওয়ার্কস ডিসপ্লেসহ নানা ধরনের পারফরমেন্স।  

অশ্রুময় এক পরিবেশে আলিবাবার দায়িত্ব তুলে দেন ডেনিয়েল ঝাংয়ের হাতে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী চেয়ারম্যান ঝাং। তবে শীর্ষপদ ছেড়ে দিলেও ৩৬ জনের আলিবাবা পার্টনারশিপের সদস্য থেকে যাবেন জ্যাক।    

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধে ই-কমার্স ব্যবসায় নানা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় জ্যাক মার সরে যাওয়া নানা দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ। তবে তিনি যে আলিবাবার শীর্ষপদ ছাড়তে পারেন, তা গত বছরেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

নিজের হাতে তৈরি প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ পদ ছাড়ার সময় আবেগে ভেসে যান জ্যাক। অনুরাগীদের ভালোবাসায় আপ্লুত হয়ে একসময় কেঁদে ফেলেন তিনি। এই আবেগঘন দৃশ্য ভাইরাল হয়ে পড়ে নেট দুনিয়ায়। দিনভর চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেনডিং ছিল, ‘জ্যাক মা হ্যাজ ক্রাইড’ বাক্যটি।

২০ বছর আগে হাংঝু শহরের একটি লেকসাইড অ্যাপার্টমেন্ট থেকে আলিবাবার যাত্রা শুরু করেছিলেন জ্যাক মা। ১৯৯৯ সালে শিক্ষকতা করতে করতেই আলিবাবার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের খুচরো ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চীনা পণ্য রপ্তানিকারকদের মধ্যে সেতুর কাজ করে আলিবাবা। জ্যাক মার হাত ধরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠে এটি।

১০ আগস্ট ছিল চীনে শিক্ষক দিবস। আলিবাবা থেকে বিদায়ে এই দিনটিকে বেছে নিয়েছিলেন এক সময়ে শিক্ষকতা করা জ্যাক মা।  

বিদায়ী বক্তব্যে জ্যাক মা ভবিষ্যতের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন। ভবিষ্যতের প্রযুক্তি বিশেষ করে ফাইভ জি এবং ডেটা শেয়ারিং বিষয়গুলো কীভাবে বিশ্বব্যাপী ব্যবসায়ে মৌলিক প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।

প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদ থেকে সরে দাঁড়ালেও এটি তার পুরোপুরি অবসর নেওয়া নয় বলে জ্যাক মা জানান। অলাভজনক সামাজিক উন্নয়ন ও জনহিতৈষী কাজে তিনি মনোনিবেশ করবেন।

তিনি বলেন, “এই পৃথিবীতে এমন অনেক ভুল ধারণা এবং অবাঞ্ছিত বিষয় আছে, সেগুলোর সমাধানে আমি ভূমিকা রাখতে পারব। শীর্ষপদ থেকে সরে দাঁড়ানো মানেই পুরোপুরি অবসরে যাওয়া নয়। আমি থেমে থাকব না। আলিবাবা ছিল আমার অনেকগুলোর স্বপ্নের একটি মাত্র।”

জুন মাসে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে আলিবাবার আয় ছিল এক হাজার ৬৭০ কোটি ডলার।  গত বছর আলিবাবার প্ল্যাটফর্ম থেকে বিক্রি ২৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় আট হাজার ৫৩০ কোটি ডলার। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আমাজনের বিক্রি ছিল দু’হাজার ৭৭০ কোটি ডলার।

গত ২০ বছরে প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যসেবা, বিনোদন, ক্লাউড কম্পিউটিং, ফুড ডেলিভারি, অফলাইন রিটেইলার্স সহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসার পরিসর ঘটায়। ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ফেসিয়াল রিকগনেশনসহ নতুন প্রযুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ফিজিকাল স্টোরকে রূপান্তর করতে চাইছে।

আলিবাবার চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে দিলেও এখনো চীনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি জ্যাক মা। ব্লুমবার্গের তালিকায় বিশ্বের ২০ জন ধনকুবেরের তালিকায় রয়েছেন তিনি। তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৪ হাজার ১৮০ ডলার।

মন্তব্য