| প্রচ্ছদ

আ.লীগ নেতার ছেলের ছাত্রদল সভাপতি প্রার্থিতায় সমস্যা দেখছেন না ফখরুল

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৩৩ বার। প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ।

গণতান্ত্রিক দেশে থাকতেই পারে যে বাবা একটা রাজনীতি করবেন, ছেলে আরেকটা রাজনীতি করবে- এমনটাই মনে করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ছাত্রদলের কাউন্সিলে একজন সভাপতি প্রার্থীর বাবা আওয়ামী লীগ নেতা- এ বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি এমন মনোভাব ব্যক্ত করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমার ছাত্রজীবনে আমার বাবা একটা রাজনীতি করতেন, আমি আরেকটা করতাম। কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। না বাবার হয়েছে, না আমার।’

‘এখনতো বাবা যদি আওয়ামী লীগ করে থাকে তাহলে তার ছেলে বিএনপি বা ছাত্রদল করলে বিপদ হবে। আবার বাবার বিপদ হবে, তার ছেলে ছাত্রদল করলে। এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে ভিন্নমত পোষণ করা যাবে না’ যোগ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে যৌথসভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন মানববন্ধন পর্যায়ে থাকবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটাতো এখন বলতে পারব না। তবে মানববন্ধন হবে, এরপর নিউ কোর্সে সুনির্দিষ্টভাবে আন্দোলন হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, রবিবার মৎস্যজীবী দল, সোমবার মুক্তিযোদ্ধা দল, মঙ্গলবার তাঁতি, বুধবার অ্যাব মানববন্ধন করবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করবে।

এসময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। তার প্রাপ্য জামিন থেকে তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এজন্য তার মুক্তির দাবিতে আমরা আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করছি। আজকের যৌথসভায় সেই আন্দোলনের আরেকটি ধাপ আমরা ঠিক করেছি।’

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, আজকের শাসকগোষ্ঠী সম্পূর্ণ অবৈধভাবে জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে ভোট ডাকাতির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসে আছে। তাদের পক্ষে এই গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা, সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করা, মানুষের অধিকারগুলোকে কেড়ে নেওয়া সম্ভব হবে না যদি খালেদা জিয়া বাইরে থাকেন। সে কারণে তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, একই ধরনের মামলায় অন্য যারা সাজা পেয়েছেন তারা জামিনে আছেন। সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার বিষয়ে এটাকে সম্পূর্ণ দলীয়করণের পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, দুই মাসে আগের হিসাবে বিএনপির ২৬ লাখ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এক লাখের ওপরে মামলা। পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী গুম ও কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মাহতাব, তাঁতি দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা শাহ মো. নেসারুল হক প্রমুখ।

মন্তব্য