| প্রচ্ছদ

‘ছেলের অভাব পূরণে’ শিশু চুরিতে নেমে গ্রেপ্তার

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৪০ বার। প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ।
তিন মেয়ের জনক দিদারুল আলমের চাওয়া ছিল একটি ছেলে; নিজের না হওয়ায় একটি ছেলে জোগাড়ের দায়িত্ব দেন পরিচিত এক নারীকে। ওই নারী চুরি করে তাকে এনে দেন আট মাস বয়েসী একটি শিশু।

ওই শিশুকে তিন দিনের বেশি রাখতে পারলেন না দিদার। বরং শিশু চুরির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে হচ্ছে তাকে।

চট্টগ্রাম নগরী ও ফটিকছড়ি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয় ৫৫ বছর বয়সী দিদারুল আলম এবং তাকে ছেলে জোগাড় করে দেওয়া রেহেনা পারভীন (৪০) নামে নারীকে।

চান্দগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রহিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর চান্দগাঁও বেপারী পাড়ার মোরশেদ কলোনী থেকে চুরি হয় আট মাস বয়েসী শিশুটি। তাদের প্রতিবেশী আমানুল হক মানিক নামে এক ব্যক্তি শিশুটিকে বেড়ানোর কথা বলে চুরি করে নিয়ে যায়।

শিশুটির বাবা একজন অটো রিকশাচালক। ছেলের খোঁজ না পেয়ে তিনি চান্দগাঁও থানায় অভিযোগ করেন।

পরিদর্শক রহিম বলেন, “আমরা তদন্তে জানতে পারি মানিক শিশুটিকে রেহেনা পারভীন নামে ফটিকছড়ির এক নারীকে দিয়েছে। এর সূত্র ধরে ফটিকছড়ির নানুপুর থেকে রেহেনাকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রায়পুরে অভিযান চালিয়ে দিদারের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।”

দিদার ও রেহেনাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ কর্মকর্তা রহিম বলেন, “দিদারের তিন মেয়ে থাকলেও কোনো ছেলে সন্তান নেই। একটি ছেলে সন্তানের কথা সে রেহেনাকে জানায় এবং বিনিময়ে এক লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে।

“রেহেনা বিষয়টি তার পূর্ব পরিচিত মানিককে জানায়। মানিক তাই শিশুটিকে চুরি করে রেহেনার হাতে তুলে দেয়।

এদিকে দিদারের চুক্তি করা এক লাখ টাকার মধ্যে ১০ হাজার টাকা আগে পরিশোধ করেছিল এবং বাকি ৯০ হাজার টাকা আজ (বৃহস্পতিবার) পরিশোধ করার কথা ছিল। তার আগেই শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।”

শিশু চুরির মামলায় দিদার ও রেহেনাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শুক্রবার আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন পরিদর্শক রহিম।

পলাতক মানিককে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে বলেও তিনি জানান।

মন্তব্য