| প্রচ্ছদ

বগুড়ার নন্দীগ্রামে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দফতরী আটক

স্টাফ রিপোর্টার
পঠিত হয়েছে ১০৮ বার। প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ।

বগুড়ার নন্দীগ্রামে মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৩) ওই প্রতিষ্ঠানেরই দফতরী ধর্ষণ করেছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার থালতামাঝগ্রাম পশ্চিমপাড়া গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ধর্ষক থালতামাঝগ্রাম ফাজিল মাদ্রাসার দফতরী বাবলু গায়েনকে (৪৫) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। 
ধর্ষিতা ওই ছাত্রী ওই একই মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত বাবলু গায়েন থালতামাঝগ্রাম পশ্চিমপাড়ার মৃত আকবর আলী গায়েনের ছেলে। ওই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
নন্দীগ্রাম উপজেলার কুমিড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আজিজুর রহমান জানান, থালতামাঝগ্রাম ফাজিল মাদ্রাসায় শনিবার সকাল ১০টায় প্রথম ক্লাস শুরু হয়। ওই ক্লাস শেষ হওয়ার পর পরের ক্লাস শুরুতে বিলম্ব হচ্ছিল। এ সময় ষষ্ঠ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী মাদ্রাসার পাশে বাজারে অবস্থিত স্থানীয় একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে ওই মাদ্রাসার দফতরী বাবলু গায়েনের সঙ্গে তার দেখা হয়। এ সময় বাবলুু গায়েন কৌশলে তাকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। তখন বাবলু গায়েনের বাড়িতে স্ত্রী-সন্তানরা কেউ ছিলেন না। ফাঁকা বাড়িতে একা পেয়ে বাবলু ওই মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। পরে সে ওই ছাত্রীকে তার বাড়িতে তালাবদ্ধ অবস্থায় রেখে বাইরে যায়।
তবে এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া এবং পরে তাকে তালাবদ্ধ রেখে বাবলু গায়েনের বাইরে যাওয়ার বিষয়টি গ্রামের কিছু লোক টের পায়। বিষয়টি এক কান থেকে দু’কান হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন বাবলু গায়েনকে আটক করে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে তার বাড়ির ভেতরে তালাবদ্ধ একটি ঘর থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে। এ সময় ওই ছাত্রী গ্রামবাসীকে জানায়, একই গ্রামে বাড়ি হওয়ার কারণে দফতরী বাবলু গায়েনকে সে নানা বলে ডাকে। সরলতার সুযোগ নিয়ে বাড়িতে ডেকে নিয়ে সে তাকে ধর্ষণ করে এবং পরে তালা দিয়ে বাইরে চলে যায়। ওই ছাত্রীটি গ্রামবাসীকে আরও বলে, ভয়-ভীতি দেখানোর কারণে সে চিৎকারও দিতে পারছিল না। ছাত্রীর মুখে এমন কথা শুনে গ্রামবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং বাবলু গায়েনকে তার বাড়িতে অবরুদ্ধ করে পুলিশে খবর দেয়। ইন্সপেক্টর আজিজুর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত বাবলু গায়েন ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।
নন্দীগ্রাম থানার ওসি শওকত কবির জানান, মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত দফতরী বাবলু গায়েনের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, মেডিকেল টেস্টের জন্য ভিকটিককে (মাদ্রাসা ছাত্রী) রোববার বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।

মন্তব্য