| প্রচ্ছদ

বগুড়ার শেরপুরে নকলের অভিযোগে পরীক্ষা দিতে না দেয়ায় শিক্ষার্থীর আত্ম্যহত্যার চেষ্টা

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
পঠিত হয়েছে ৪৭ বার। প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ।

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নকল করার অভিযোগে জেএসসি  মডেল টেস্ট পরীক্ষা দিতে না দেয়ায় বগুড়ার শেরপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনেই ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে এক স্কুল ছাত্র। শনিবার উপজেলার পৌরশহরের শেরউড ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট স্কুল এন্ড কলেজে এই ঘটনা ঘটে। ওই শিক্ষার্থীর নাম তাছলিমুল ইসলাম (১৪)। সে ওই প্রতিষ্ঠানের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। 

এদিকে অচেতন অবস্থায় ওই স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শনিবার দুপুরে এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত তাছলিমুলের জ্ঞান ফিরলেও এখনও সে শঙ্কামুক্ত নন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। 

ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে শেরউড ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল করিম জানান, জেএসসি পরীক্ষার্থীদের মডেল টেস্ট পরীক্ষা চলছে। গত বুধবারের ঘটনা। ওইদিন ছিল বিজ্ঞান পরীক্ষা। কিন্তু ওই ছাত্র মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষা হলে প্রবেশ করে। একইসঙ্গে মোবাইল ফোনের উত্তর লিখে এনে পরীক্ষায় নকল করছিল। বিষয়টি শ্রেণী শিক্ষক টের পান এবং স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর বিষয়টি আলোচনা-পর্যালোচনা ও প্রতিষ্ঠানের শৃঙখলা ভঙ্গের কারণে তাকে বাকি পরীক্ষাগুলো দেয়া হবে না মর্মে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আর সেই সিদ্ধান্তের কারণে ওই ছাত্রকে পরদিন বৃহস্পতিবার ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা পরীক্ষায় অংশ নিতে দেয়া হয়নি। এরপর হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে ওই ছাত্রকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এখানে স্কুল কর্তৃপক্ষের কোন দায়িত্ব অবহেলা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই শিক্ষার্থীর বাবা শেরপুর পৌরশহরের শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, 'ছেলে অপরাধ করলে অভিভাবক হিসেবে তাকে প্রথমে জানাতে হবে। কিন্তু আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। কেবল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে স্কুল থেকে একটি ফোন পাই। জানানো হয়, আপনার ছেলের একটু সমস্যা হয়েছে। তাই হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, সেখানে যোগাযোগ করুন।'

তিনি অভিযোগ করে বলেন, 'মোবাইল ফোন নিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কারণে সহপাঠিদের সামনে তাছলিমুলের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন শ্রেণি শিক্ষক। নোংরা ভাষায় তাকে গালাগালসহ পরীক্ষার কক্ষ থেকে বের করে দেয়া হয়। এমনকি চূড়ান্ত বোর্ড পরীক্ষায় (জেএসসি) অংশগ্রহণ করতে দেয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। এতে ক্ষোভে-দুঃখে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। পরে বিদ্যালয়ে ছাদে গিয়ে বেশ কয়েকটি ঘুমের ট্যাবলেট (চেতনানাশক) খেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সহপাঠিরা তাকে খুঁজতে থাকেন। বেশকিছু সময় খোঁজাখুঁজির পর বিদ্যালয়ের ছাদ থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে অদ্যবধি স্কুল কর্তৃপক্ষ তার ছেলের কোন খোঁজ-খবর নেননি। গেল তিনদিন ধরে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালের মেঝেতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। তাই ছেলের চিকিৎসা নিয়েই ব্যস্ত রয়েছি। ছেলে সুস্থ হলে থানায় লিখিত অভিযোগ দেবেন বলেও জানান তিনি।'

শেরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, 'ঘটনাটি মৌখিকভাবে শুনেছি। তবে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।'

মন্তব্য