| প্রচ্ছদ

১৮ ফুট প্রশস্থ সড়কটি ৩৪ ফুটে উন্নীত হবে

বগুড়া-নাটোর সড়ক ৫৭ বছর পর প্রকৃত মহাসড়কে উন্নীত হচ্ছে

পুণ্ড্রকথা রিপোর্ট
পঠিত হয়েছে ২৪৬ বার। প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ।

প্রশস্থতা কম হওয়ার পরেও শুধুমাত্র গুরুত্ব বিবেচনায় বগুড়া-নাটোর সড়কটি এতদিন কাগজে-কলমে মহাসড়ক হিসেবে স্বীকৃত ছিল। তবে ৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই সড়কটির প্রশস্থতা এবার ১৮ ফুট থেকে বাড়িয়ে ৩৪ ফুট করে সত্যিকারে মহাসড়কে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গত ৫ জুলাই প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে।
বগুড়ায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একনেকের অনুমোদন পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী ওই প্রকল্পটি এখন সরকারি আদেশ (জিও) জারির অপেক্ষায় রয়েছে। আদেশটি জারি হলেই প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ শেষে দরপত্র আহবানের কাজটি শুরু হবে। 
বগুড়ায় সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান জানান, দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১৫ জেলার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৩ জেলার যোগাযোগ রক্ষাকারী ওই সড়কটিকে মহাসড়কের মান অনুযায়ী প্রশস্থ করা হলে যান চলাচলে গতি বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে দেশের দু’টি অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অবস্থারও উন্নতি ঘটবে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বগুড়া-নাটোর সড়কের প্রশস্থতা বাড়ানো হলে তার পাশে নির্মিতব্য অর্থনৈতিক অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। এতে বিনিয়োগকারী উৎসাহিত হবেন।
বগুড়া থেকে নাটোর হয়ে রাজশাহীমুখী সড়কটি অর্ধ শতাব্দীরও বেশি আগে ১৯৬২ সালে নির্মাণ করা হয়। সে সময় বগুড়া জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত ওই সড়কটির প্রশস্ততা ছিল মাত্র ১৮ ফুট। নির্মাণের ১৮ বছর পর ১৯৮০ সালে ওই সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিয়ন্ত্রণে আসে। খুলনা ও রাজাহী বিভাগের বিভাজক পদ্মা নদীর ওপর পাবনা জেলার ঈশ্বরদী এবং কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা অংশে ২০০৪ সালে লালন সেতু নির্মাণের পর বগুড়া-নাটোর সড়কে যান চলাচল কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু প্রশস্ততা বাড়ানো হয়নি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দেশে মহাসড়কের ন্যুনতম প্রশস্থতা ২৪ ফুট। কিন্তু বগুড়া-নাটোর সড়কের প্রশস্ততা মাত্র ১৮ ফুট। অবশ্য তার পরেও গুরুত্ব বিবেচনায় সেটিকে কাগজে-কলমে মহাসড়ক হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে প্রশস্ততা কম হওয়ায় যাত্রীবাহী বড় বাস এবং পণ্যবোঝাই ট্রাক চলাচলে সমস্যা হয়। এক সঙ্গে বড় দু’টি বাস কিংবা ট্রাক পাশাপাশি চলতে পারে না বলে সড়কের পাশে মাটিতে নেমে সাইড দিতে হয়। বর্ষাকালে সেই মাটি কর্দমাক্ত ও নরম থাকে বলে তাতে চাকা নামালে আর তোলা যায় না। ফলে ওই সময়ে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘœ ঘটে। এছাড়া হালকা যানবাহনগুলোও চলাচল করতে পারে না। কিন্তু তার পরেও বাস্তবতা হলো সরু ওই সড়কে বছর বছর যানবাহনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সওজের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে বগুড়া-নাটোর সড়কে প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর যানবাহনের চাপ আরও বেড়েছে। কেননা পদ্মা সেতুর জন্য প্রয়োজনীয় পাথর উত্তরের জেলা পঞ্চগড় থেকে ট্রাকে করে বগুড়া-নাটোর সড়ক হয়েই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। 
পাথর ব্যবসায়ী শেখ শামিম জানান, কাগজে-কলমে মহাসড়ক হলেও বগুড়া-নাটোর সড়কের প্রশস্থতা প্রকৃত মহাসড়কের চেয়ে ৬ ফুট কম। মাত্র ১৮ ফুট প্রশস্থের ওই সড়কে পণ্য বিশেষত পাথর পরিবহনে অনেক ভোগান্তি পোহাত হয়। বগুড়া থেকে রাজশাহী, কুষ্টিয়া, পাবনা ও খুলনা চলাচলকারী বাসগুলোর চালকরা জানিয়েছেন, সড়কটির প্রশস্থতা কম হওয়ার কারণে ওভারটেকিং কিংবা সাইড দিতে গিয়ে সমস্যা হয়। আসাদুজ্জামান নামে এক চালক বলেন, বর্ষাকালে সড়কের দুই পাশের মাটি নরম থাকে বলে চাকা নিচে নামানো যায় না। একবার নামালে আর তোলা যায় না। ফলে তখন যাতায়াতে অনেক সমস্যা হয়। বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদ চেয়াম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ জানান, সড়কটি প্রশস্থ করার জন্য নন্দীগ্রামসহ বগুড়া জেলাবাসী দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে।
বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান মিলন বলেন, ‘বগুড়া-নাটোর সড়কের পাশেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারিভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সড়কটি প্রশস্ত হলে বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হবেন। এজন্য দ্রুতই কাজ শুরু করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল মেশিনারী মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বামমা) বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজেদুর রহমান রাজু বলেন, অনেক দেরিতে হলেও বগুড়া-নাটোর সড়ক সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা খুশী। সড়কটি প্রশস্থ করা হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে বাণিজ্য সুবিধাও বাড়বে। 
সওজ বগুড়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান জানান, বগুড়া-নাটোর সড়কটিকে এখন প্রকৃত মহাসড়কে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, মুল সড়ক ১৮ ফুট থেকে ২৪ ফুট প্রশস্থ করার পাশাপাশি হালকা যানবাহনগুলো যাতে নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারে সেজন্য উভয় পাশে ৫ফুট করে আরও ১০ ফুট পেভমেন্ট নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সড়কটি প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেকের সভায় এ সংক্রান্ত প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই নির্মাণ কাজ শুরু হবে।’

 

মন্তব্য