| প্রচ্ছদ

পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে: খন্দকার মোশাররফ

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ২৭ বার। প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ।

দেশের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী নবীন দলের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, দেশের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। সকল প্রতিষ্ঠান সরকারের নিয়ন্ত্রণহীন, লাগামহীন। গণতন্ত্রহীনতার কারণে সর্বত্র নৈরাজ্য বিরাজ করছে। এই অবস্থায় দেশ একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে, দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে। সর্বক্ষেত্রে সর্বগ্রাসী অবক্ষয় ঘটেছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যে উদ্দেশ্য নিয়ে ভোট ডাকাতি করেছে আজকে তারাও আজকে বুঝতে পারছে কী পরিমাণ পরাজয় আওয়ামী লীগের হয়েছে। তাদের এই পরাজয় শুরু হয়েছে গত ২৯ তারিখ ডিসেম্বর রাতে। সরকার দেশ পরিচালনা করতে পারছে না, তারা সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ।

তিনি বলেন, সরকারের কোথাও কোনো নিয়ন্ত্রণ নােই। উচ্চ আদালত মানুষের সর্বশেষ যে জায়গা সেখানে তিনজন বিচারপতিকে এই সরকারের সময়ে চিহ্নিত করা হয়েছে- তারা দুর্নীতিবাজ। পুলিশ বিভাগের ডিআইজি, এসপি, পুলিশের ডিসি দুর্নীতির দায়ে এই সরকারের হাতেই ধরা খেয়েছে। সরকারি সিভিল সার্ভিসের একজন জেলা প্রশাসক (ডিসি) অপকর্মের প্রত্যাহার হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিচার চলছে। দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) একজন পরিচালক দুর্নীতির দায়ে কারাগারে। কারাগারের ডিআইজি আজকে কারাগারে। প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে কেউ কেউ না কেউ ধরা পড়ে যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের প্রসঙ্গ টেনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, সবচেয়ে দুর্ভাগ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এদেশের শিক্ষিত দেশপ্রেমিক জনশক্তি তৈরি করার জন্য সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। এই বিদ্যাপীঠে কী পরিমাণ দুর্নীতি হচ্ছে, সরকারের কর্তৃত্বে এবং তাদের দলের নেতা-কর্মীরা দ্বারা কী পরিমাণ যে লুটপাট-অনিয়ম হচ্ছে তা স্পষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় ভর্তি পরীক্ষা ছাড়া ভর্তি হতে পারে -এটা কোনোদিন কেউ কল্পনা করতে পারেনি। কত বড় অন্যায়, কত বড় দুর্নীতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে ৮৬ কোটি টাকা চাঁদাবাজি করার দায়ে আজকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বহিস্কৃত। এটাও বাংলাদেশের ইতিহাসে অস্বাভাবিক বিষয়।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে সবচাইতে বড় সংকট গণতন্ত্রহীনতা। খালেদা জিয়াকে কারাগারে থাকার কারণে আজকে গণতন্ত্রহীন করে রাখা সম্ভব হয়েছে। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। তিনি মুক্তি না পেলে গণতন্ত্র মুক্তি পাবে না।

সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন আহমেদ তালুকদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মন্তব্য