| প্রচ্ছদ

বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে কঠোর ব্যবস্থা হুশিয়ারী জেলা পুলিশের

বগুড়ায় পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দদের সাথে জেলা পুলিশের মতবিনিময় সভা

স্টাফ রিপোর্টার
পঠিত হয়েছে ৪৩ বার। প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে শনিবার সকালে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পূূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দদের সাথে বগুড়া জেলা পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলার ১২ টি উপজেলায় নির্বিঘ্নে বাঙ্গালির এই বড় উৎসব উদযাপনে যেন কোন বাধা সৃষ্টি না হয় এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলা থেকে আগত ধর্মীয় নেতাদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভায় জেলা পুলিশের পক্ষে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার যথাক্রমে আব্দুল জলিল পিপিএম এবং মোকবুল হোসেন।


সভায় পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দদের সহমত প্রকাশের মাধ্যমে এবং পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা পুলিশের পক্ষে দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় গৃহীত উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তসমূহ হলো- গোধুলী লগ্নের মধ্যেই বিসর্জনের প্রয়াস করতে হবে, যানযট নিরসনে রাত ১০ টার পর শহরে কোন বড় গাড়ি প্রবেশ করবেনা তবে পূজার কয়দিন বিকেল ৫ টার পর থেকে শহরের সকল স্থানে বিভিন্ন পূজা মন্ডপ দর্শনের সুবিধার্থে অটোরিক্সা ও ইজিবাইক চলাচল করতে পারবে, পূজা চলাকালীন সময়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ট্রাফিক নিরবিচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করবে, পূজার ৩ দিন শহরের সকল বৈধ মদের দোকান বন্ধ থাকবে এবং পূজাকে কেন্দ্র করে কেউ মাদকের সাথে জড়িত হলে জিরো টলারেন্সভাবে তা জেলা পুলিশের পক্ষে দমন করা হবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি প্রতিটি মন্দিরে পরিচয়পত্রসহ সেচ্ছাসেবক রাখতে হবে, প্রতিটি মন্দিরে একটি করে পরিদর্শন বই থাকবে যা প্রতিটি থানার অফিসার ইনচার্জ সরবরাহ করবে, অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, প্রতিটি মন্দিরে শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় সুধীজনদের নিয়ে সম্প্রীতি কমিটি গঠন করতে হবে এবং প্রতিটি মন্দিরে জেলা পুলিশের পক্ষে সার্বক্ষণিক মনিটরিং এর লক্ষ্যে নির্দিষ্ট যোগাযোগের মাধ্যম নিশ্চিত করতে আহবান করা হয়েছে। সেই সাথে জরুরী প্রয়োজনে জেলা পুলিশের সদস্যদের সাথে যোগাযোগের পাশাপাশি জাতীয় হটলাইন ৯৯৯ এর সহায়তা গ্রহণ এবং প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরে সিসিটিভি ক্যামেরা ও প্রবেশ পথে মেটাল ডিটেক্টর রাখার ব্যবস্থাকরণের জন্যে পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দদের মাধ্যমে প্রতিটি মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দদের আহবান জানিয়েছেন জেলা পুলিশ পরিবার।

এসব সিদ্ধান্তসমূহ ছাড়াও সভায় ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে প্রতিবারের ন্যায় সুষ্ঠুভাবে বড় এই উৎসব উদযাপনের লক্ষ্যে জেলা পুলিশের পক্ষে আরো বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সনাতন চক্রবর্তী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শেরপুর সার্কেল) গাজিউর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার যথাক্রমে সাবিনা ইয়াসমিন, আহমেদ রাজিউর রহমান ও কুদরত-ই-খুদা শুভ, বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এস.এম বদিউজ্জামান, ডিসএবির অফিসার ইনচার্জ শাহজাহান আলী, জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি আছলাম আলী পিপিএম, শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আজিম উদ্দিন, শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির, আদমদিঘী থানার অফিসার ইনচার্জ জালাল উদ্দিন, ট্রাফিক ইনচার্জ রেজাউল করিম খান সহ অনেকে।

সভায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষে জেলা পুলিশের কাছে মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দদের বিভিন্ন সমস্যা এবং করণীয় নানা দিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি দিলীপ কুমার দেব, সাবেক সভাপতি অমৃত লাল সাহা, সাধারণ সম্পাদক সাগর কুমার রায়, প্রচার সম্পাদক গোপাল তেওয়ারী, বগুড়া সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার রায়, পৌর কমিটির সভাপতি পরিমল প্রসাদ রাজ, সহ-সভাপতি অতুল কুমার সাহা ও দিপক রায় দিপু, সাধারণ সম্পাদক সুজিত কুমার তালুকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সঞ্জু রায়, শেরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি নিমাই ঘোষ, সারিয়াকান্দি উপজেলা শাখার সভাপতি চন্দন চক্রবর্তী ও সাধারণ সম্পাদক প্রভাত চন্দ্র সাহা, শাজাহানপুর উপজেলা শাখার সভাপতি নীরেন্দ্র মোহন, সংগ্রাম কুমার কুন্ডু, দুপচাঁচিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি অসীম কুমার দাস ও সম্পাদক দুলাল চন্দ্র, কাহালু উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন কুমার, সোনাতলা উপজেলা শাখার সভাপতি অসীম কুমার জৈন ও সম্পাদক দিলীপ কুমার, শিবগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি রাম নারায়ণ কানু, ধুনট উপজেলা শাখার সভাপতি বিকাশ চন্দ্র সাহা, নন্দীগ্রাম উপজেলা শাখার সভাপতি দুলাল চন্দ্র মহন্ত ও সুকুমার সরকার, আদমদিঘী উপজেলা শাখার সভাপতি অসিত দেবনাথ ও সাধারণ সম্পাদক মিহির কুমার সরকার প্রমুখ।
 

মন্তব্য