| প্রচ্ছদ

রাণীনগরে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত কয়েক হাজার গরুঃ পালনকারীরা আতংকিত

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ)
পঠিত হয়েছে ১০২ বার। প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ।

নওগাঁর রাণীনগরে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে পরেছে হাজার হাজার গরু। ইতি মধ্যে মারা গেছে বেশ কিছু আক্রান্ত গরু। এতে খামারীরা গরু পালনকারীরা আতংকিত ও দিশে হারা হয়ে পরেছে । সুনির্দিষ্ট ভ্যাকসিন না থাকার ফলে উপজেলা জুরেই প্রকোপ বিস্তার করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের গরু পালনকারীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, গরুর গায়ে প্রথমে বসন্তের মতো গুটি গুটি দেখা যায় । এর পর দু-এক দিনের মধ্যেই গরুর পুরো শরীর জুরেই গুটি গুটি হয়ে ঘা এ পরিনত হচ্ছে। এসময় গরুর শরীরে অতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা দেয় এবং গরু খাওয়া ছেরে দেয়। অনেক সময় গরুর বুকের নিচে পানি জমে ক্ষত সৃষ্টি হচ্ছে । এছাড়া ক্ষতস্থান থেকে মাংস খসে খসে পরছে । সঠিক সময়ে উপযুক্ত চিকিৎসা কিম্বা রোগের লক্ষন জানা না থাকায় বেশ কিছু গরু মারা গেছে। এতে আতংকিত হয়ে পরেছে খামারী গরু পালনকারীরা । রাণীনগর উপজেলার গুয়াতা গ্রামের গরু পালনকারী হামিদুল হল (বটো) জানান,তার চারটি গরুর গায়ে গুটি গুটি বসন্তের মতো বের হয়েছে। এবিষয়ে রাণীনগর পশু হাসপাতালে গিয়ে জানালে আসবো বলে ডাক্তাররা আর আসেনি এবং তারা কোন প্রতিকার মূলক ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি জানান,স্থানীয় ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করাতে প্রায় সাড়ে ২৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে । তার পরেও একটি গরু মারা গেছে এবং প্রায় ৬০ হাজার টাকা দামের একটি গরু মাত্র চার হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। বাঁকী দু’টি গরুর চিকিৎসা চলছে । এছাড়া ওই গ্রামের নাজিদুল হক জানান,তার একটি এবং বাবলুর একটি,আব্দুর রাজ্জাকের একটি,সাইফুল ইসলামের একটিসহ অন্তত ১০/১৫টি গরু ল্যাম্পি ডিজিজ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। খট্রেশ্বর গ্রামের আনিসুজ্জামান টুকু জানান,তার একটি গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া কালীগ্রাম,বড়িয়াপাড়া,কয়াপাড়া,হরিপুর ,অলংকার দীঘি,উজালপুর,আতাইকুলা,খট্রেশ্বরসহ উপজেলার অধিকাংশ গ্রামে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ ছড়িয়ে পরেছে। এতে কয়েক হাজার গরু আক্রান্ত হয়ে পরেছে।


এব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা ভেটেরিনারী সার্জন আমিনুল ইসলাম বলেন, অফিসিয়াল হিসাব অনুযায়ী ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজে এ পর্যন্ত ১০৫টি গরু আক্রান্ত হয়েছে । তবে এ রোগে কোথাও গরু মারা যাবার খবর জানা নেই। তিনি বলছেন, লোকজনকে সচেতন করতে ইতি মধ্যে লিফলেট বিতরণ এবং সভা-সেমিনারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজের ভ্যাকসিন না থাকায় এ রোগটি দ্রুত প্রকোপ বিস্তার করছে। তার পরেও নিয়ন্ত্রন করার জন্য সাধ্য মতো চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
 

মন্তব্য