| প্রচ্ছদ

বগুড়ার শেরপুরে ফেসবুকে সনাতন ধর্ম সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করায় শিক্ষক আটক

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
পঠিত হয়েছে ১৭৭ বার। প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ।

বগুড়ার শেরপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) সনাতন ধর্ম সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে পুলিশ।

আটককৃত ওই শিক্ষকের নাম মতিউর রহমান মুন্না (২৭)। তিনি উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের উত্তর আমইন গ্রামের আব্দুল মোমিনের ছেলে।

এদিকে পুলিশি অভিযানে আটক হওয়া ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের পাঁচ সংগঠন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত আলী সেখের নিকট স্মারকলিপি দিয়েছেন।

স্মারকলিপি থেকে জানা যায়, শহরের শেরউড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মতিউর রহমান মুন্না গত ২ সেপ্টেম্বর তার নিজের ফেসবুক আইডি থেকে সনাতন (হিন্দু) ধর্ম সম্পর্কে আপত্তিরকর মন্তব্য করে একটি পোষ্ট দেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন তিনি। এদিকে ওই শিক্ষক পরদিন ৩ সেপ্টেম্বর সকালের দিকে পোষ্ট করা আপত্তিকর মন্তব্যগুলো আবার ডিলিট করে দেন। এরপরও স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ শেরপুর উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে থানায় অভিযোগ দেয়ার পর পুলিশ তাকে আটক করে থানায় আনে।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ শেরপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক পরিমল কুমার দত্ত থানায় আটক ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেন, 'তাদের হিন্দু ধর্ম নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তাতে সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের মানুষদের মাঝে ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত লেগেছে। তাই উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি বিচারের আওতায় এনে অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডের বিচার দাবি করছি।

আটককৃত অভিযুক্ত শিক্ষক মতিউর রহমান মুন্না নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, 'ওই পোষ্টটি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। এরপরও ফেসবুকে আরেকটি পোষ্ট দিয়ে অনাকাংখিত কাজের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন বলেও জানান তিনি।'

শেরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বলেন, 'এই ঘটনায় থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।' 

মন্তব্য