| প্রচ্ছদ

মুখে অস্বীকার করলেও ইসরাইলকে স্বীকৃতির পথেই ইমরান খান!

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৩৭ বার। প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ।

ফিলিস্তিনিদের একটি স্বদেশ না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবে না পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটিতে এশিয়ান সোসাইটির একটি অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এমন দাবি করেছেন। 

ইসরাইলের প্রতি নিজেদের পররাষ্ট্রনীতিতে একটা পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে পাকিস্তান বলে যে গুজব শোনা যাচ্ছে মিডল ইস্ট আইয়ের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এমন খবর কোথা থেকে এসেছে, তা নিয়ে তিনি অবগত নন।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন বিশ্ব ক্রিকেটের সাবেক এই কিংবদন্তি তারকা।

উপসাগরীয় দেশ ও ইসরাইলের মধ্যকার সম্পর্কের পুনর্নির্মাণের কারণে ইহুদিবাদী দেশটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপন করতে যাচ্ছে পাকিস্তান, এমন একটি গুজব গত মাসে ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ে।

বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের সঙ্গে বর্ণবাদী রাষ্ট্র ইসরাইলের সম্পর্কের কথা অনেকটা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এসব দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক ঐতিহ্যগত।

ইতিমধ্যে পাক-ইসরাইল সম্পর্ক নিয়ে সামাজিকমাধ্যমেও ব্যাপক তোলপাড় চলছে। কেউ কেউ বলছেন, পাকিস্তানের অর্থনীতির এই দৈন্য দশার মধ্যে নতুন মিত্র গড়া দরকার।

ক্ষমতায় আসার পর ইমরান খানের সরকারকে মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। দেশটিতে নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। গত কয়েক মাসে মুদ্রাস্ফীতিও বেড়ে গেছে।

কিন্তু ইমরান খান দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, পাকিস্তানের অবস্থান খুবই পরিষ্কার। পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা কায়েদ-ই-আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ খুবই স্পষ্ট করে দিয়ে গেছেন যে এখানে একটা ন্যায়সঙ্গত নিষ্পত্তিতে আসতে হবে। ফিলিস্তিনিদের একটি স্বদেশ না হওয়ার আগে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়া যাবে না।

এসময় উল্লাসপূর্ণ করতালিতে তার এ বক্তব্যকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরের শুরুতেই এই বিতর্ক শুরু হয়েছে। তখন পাকিস্তানের প্রভাবশালী দুনিয়া মিডিয়া গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সম্পাদক কামরান খান টুইটারে বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে প্রকাশ্য ও সরাসরি যোগাযোগের পথ তৈরি করার সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আমরা কেন আলোচনা করতে পারব না?

খবর পরিবেশনের ক্ষেত্রে মধ্যডানপন্থী নীতি অবলম্বন করে দুনিয়া মিডিয়া গ্রুপ। ইসরাইল সম্পর্কে পাকিস্তানিদের প্রকাশ্য অভিমত চেখে দেখার চেষ্টা হিসেবে তার এই টুইট বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন অনেকে।

কুনওয়ার খুলদুনি শহীদ নামে এক পাকিস্তানি সাংবাদিক ইসরাইলি দৈনিক হারিৎসে লিখেছেন, ইসলামাবাদে এক সময়ের নিষিদ্ধ বিষয় নিয়ে এই টুইটে দেখা গেছে, ইসরাইলের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এখন তা মূলধারার আলোচনায় ঢুকে পড়েছে।

এর কয়েকদিন পর এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ইসরাইলের প্রতি নিজেদের সম্পর্কের গতিপথ পরিবর্তনের কথা অস্বীকার করেছে।

একজন মুখপাত্র বলেন, যতদূর পর্যন্ত আমাদের চোখ যায়, এমন কিছু ঘটছে না। কিন্তু এটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিস সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন।

কিন্তু পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিয়ে তেমন কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। এমনকি বিষয়টি তারা স্পষ্টকরণও করেনি। কাজেই এতে আরও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ইমরান খানের মনোভাব কী, এমন প্রশ্ন শুরু হয়েছে ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকেই।

তখন প্রচারিত এক খবরে দাবি করা হয়েছে, ইসরাইলের একটি বিমান ইসলামাবাদে অবতরণ করেছিল এবং ১০ ঘণ্টার মতো দেশটিতে ছিল।

এতে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু পাকিস্তান সফরে ছিলেন বলে ব্যাপক জল্পনা করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান খানের ক্ষমতায় আসার মাস দুয়েক পরের ঘটনা এটি।

পাকিস্তানের বিমানবন্দর কর্মকর্তারা গত নভেম্বরে মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুকে বহনকারী একটি বিজজেট ফ্লাইট ওমানে আকস্মিক সফর শেষে পাকিস্তানের নূরখান বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে।

এক বিমানচালক তখন জানিয়েছেন, নূরখান বিমানঘাঁটিতে অবতরণের আগে একটি বিজজেট ফ্লাইট তার বিমান বরাবরই উড়ছিল।

নূরখান বিমানঘাঁটি থেকে তিন প্রত্যক্ষদর্শী পাইলটের এই বক্তব্যকে নিশ্চিত করেছেন। তারা বলেন, বিমান থেকে একটি প্রতিনিধি দলকে একটি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এসব ঘটনা ইমরান খানের জন্য রাজনৈতিক সংকট উসকে দিয়েছিল। পাকিস্তান কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়নি। কিন্তু এটা বোঝা যাচ্ছে, দেশদুটি পর্দার আড়ালে সম্পর্ক গড়ছে। এমনকি কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ার বিষয়েও আলোচনা করেছে।

যদিও ভারত উদ্ভূত হিন্দু ফ্যাসিবাদ ও কাশ্মীরের কয়েক সপ্তাহব্যাপী অচলাবস্থাকে সামনে তুলে ধরতে জাতিসংঘে ইমরান খান অটল রয়েছেন, এছাড়াও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়েও তাকে কাজ করতে হচ্ছে।

সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী সম্পর্ক। আবার প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ৬৬ বছর বয়সী ইমরান খান ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ইরানের সঙ্গে মধ্যস্থতার বিষয়ে ভূমিকা রাখতে অনুরোধ করেছেন।

মন্তব্য