| প্রচ্ছদ

কথায় কথায় অস্ত্র দেখান নিজাম, ছোড়েন গুলিও

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৩৪ বার। প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করেন তিনি। কথায় কথায় কথায় অস্ত্র দেখান, ছোড়েন গুলিও।

উপজেলার চৌধুরীহাটের ব্যবসায়ী মো. নিজাম উদ্দিনের (৪১) এমন কাণ্ডে এলাকায় ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ প্রতিপক্ষের ওপর পরপর ছয় রাউন্ড গুলি ছুড়েছেন তিনি।

গত ২১ সেপ্টেম্বর দুপুরের ওই ঘটনা ধরা পড়েছে স্থানীয় এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনের ক্যামেরায়। এরই একটি ভিডিও ফুটেজ সমকালের কাছেও এসে পৌঁছেছে।

এই ঘটনার মাত্র তিন দিন আগেও নিজাম একই এলাকায় পরপর পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছেন বলে অভিযোগ। দুই ঘটনায় কেউ গুলিবিদ্ধ না হলেও জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্স করা পিস্তল থেকে গুলি নিক্ষেপের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিতভাবে জানানোর কথা থাকলে তা পাত্তাই দেননি নিজাম। তিনি উপজেলার মধ্যম মাদার্শা আকবরিয়া এলাকার প্রয়াত আব্দুল জব্বর ওরফে ইউনুছ কোম্পানীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, চৌধুরীহাট এলাকায় পরিবার নিয়ে ২০০৪ সাল থেকে বসবাস করে আসছেন নিজাম। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে তার সঙ্গে চৌধুরীহাট পোষ্ট অফিসের পাশের প্রয়াত আবদুস সালামের ছেলে গাড়ির যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী নেজাম উদ্দিনের (৩০) জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে।

২১ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। বৈঠক চলার সময় উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় নেজাম উদ্দিন হাটহাজারী মডেল থানায় মো. নিজাম উদ্দিনসহ কয়েকজনের নামে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করায় নিজাম ক্ষিপ্ত হয়ে ওইদিন দুপুর দেড়টার দিয়ে নেজামের পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে পরপর ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কারো সঙ্গে কথা কাটাকাটি হলেও নিজাম উদ্দিন কথায় কথায় প্রকাশ্যে অস্ত্র বের করে ভয়ভীতি দেখান। সর্বশেষ ঘটা ঘটনাসহ গত এক মাসে তিনি তিনবার প্রকাশ্যে অস্ত্র বের করে ফাঁকা গুলি ছুড়েছেন।

থানায় অভিযোগকারী নেজাম উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যরা বলেন, জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মো. নিজাম উদ্দিন ও তার লোকজন ২১ সেপ্টেম্বর প্রথমে আমাদের ওপর হামলা, দোকানপাঠ ভাংচুর ও নগদ টাকা লুটপাঠ করেছেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রকাশ্যে আমাদের লক্ষ্য করে ৬ রাউন্ড গুলি ছুড়েছেন। আমরা প্রাণভয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে নিজেদের রক্ষা করেছি।

জানতে চাইলে মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, 'আমি একজন ব্যবসায়ী। ২০০৭ সাল থেকে পিস্তলটি আমার লাইসেন্স করা। ২১ সেপ্টেম্বর আত্মরক্ষার্থে ওই পিস্তলটি দিয়ে ছয় রাউন্ড গুলি নিক্ষেপ করেছি। এর তিনদিন আগে পিস্তলটি সচল কিনা পরীক্ষা করে দেখতে তিনটি ফায়ার ও দুটি মিস ফায়ারসহ মোট পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করেছি।'

হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর শনিবার বিকেলে সমকালকে বলেন, 'মারামারি ও ভাংচুরের ঘটনায় মো. নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। লাইসেন্স করা অস্ত্র থেকে গুলি নিক্ষেপ করলে অবশ্যই থানায় লিখিতভাবে জানাতে হবে। তার অস্ত্র থেকে গুলি নিক্ষেপের বিষয়টি কেউ আমাদের জানাননি এমনকি তিনি নিজেও আমাদের জানাননি। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'

মন্তব্য