| প্রচ্ছদ

ফুচকা খেয়ে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৩৯ বার। প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ।

কুমিল্লায় স্কুলের সামনে ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে ফুচকা-চটপটি খেয়ে জেলার লালমাই উপজেলার শাকেরা রজ্জব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ২৬ জনকে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ২ জনকে কুমিল্লার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, শুক্রবার রাতে লালমাই উপজেলার শাকেরা দরবার শরীফের উরসকে কেন্দ্র করে ওই বিদ্যালয়ের সামনে চটপটিসহ অন্যান্য দোকান বসে। রাতে অবিক্রিত চটপটি-ফুসকা শনিবারও বিক্রি করা হয়। দুপুরে শাকেরা রজ্জব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী এসব দোকান থেকে ফুচকা ও চটপটি খেয়ে শ্রেণি কক্ষে যায়। ঘণ্টা খানেক পর শিমু আক্তার নামে এক ছাত্রী পেট ব্যাথা, বমি ভাব ও বুক জ্বলা উপসর্গ নিয়ে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে আসে। এরপরই এক এক করে প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্রী একই উপসর্গ নিয়ে ক্লাস থেকে বেরিয়ে আসে। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদেরকে পার্শ্ববর্তী লাকসাম সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। এ সময় ছাত্রীদের অসুস্থতার খবর পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে আবদুল হক, ইসমাইল হোসেন ও রাব্বি মিয়া নামে ৩ জন চটপটি দোকানীকে আটক করে বিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক ও এলাকাবাসী।

চটপটি খেয়ে অসুস্থ হয়ে বাড়িতে চলে যাওয়া অন্তরা নামে ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রীর মা রাশিদা বেগম জানান, পেট ব্যাথা নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার পর বমি বমি ভাব ও বুক জ্বলা শুরু হওয়ায় এক পর্যায়ে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে তাকে লাকসাম সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহম্মদ উল্যাহ বলেন, ‘ছাত্রীরা বাইরের চটপটি ও ফুসকা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাদেরকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। স্কুলের সামনে বসা ৩ জন চটপটি দোকানীকে বিদ্যালয়ে আটকে রাখা হয়েছে।’

লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবদুল আলী জানান, খাদ্যে বিষক্রিয়ার ফলে ছাত্রীরা অসুস্থ হয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠছে। আশঙ্কার কিছু নেই।

এ বিষয়ে লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম ইয়াসির আরাফাত বলেন, চটপটি দোকানীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অসুস্থদের লাকসাম ও কুমিল্লা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।

মন্তব্য