| প্রচ্ছদ

হতাশায় কৃষক

শাজাহানপুরে আগাম সবজি আবাদে পচন রোগ

শাজাহানপুর(বগুড়া)প্রতিনিধি
পঠিত হয়েছে ৪৩ বার। প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ।

বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলায় ৪শত ৮০হেক্টর জমিতে আগাম সবজি চাষ হচ্ছে। এই এলাকার উৎপাদিত লালশাক, পালংশাক, মুলা, সিম, টমেটো, বাঁধা কপি, ফুল কপি, বেগুন, বরবটি, করলা, পোটল সহ বিভিন্ন ধরণের সবজি ইতিমধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে। ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা খুশি ছিলো। তবে সম্প্রতি পচন রোগ দেখা দেয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। কত একর জমিতে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই উপজেলা কৃষি অফিসে। বেশ কয়েকদিনের টানা বৃস্টিতে সবজির পচন রোগ দেখা দিতে পারে বলে অফিসটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে উপজেলার বৃকুস্টিয়া গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম, চুপিনগর গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন সহ খলিশাকান্দি, ফুলকোট সহ আশপাশের গ্রামের কৃষকরা জানান, বেশির ভাগ বাগানের পোটল, বরবটি, করলা, ঝিঙ্গা সহ জাংলায় ধরে এসন সবজি অল্প করে বাজারে তোলা শুরু হয়েছে। গত ১৫দিনের মধ্যে বেশির ভাগ বাগানে গাছের আগা পচে যাচ্ছে। সাথে পাতা এবং ফলন। বৃকুস্টিয়া এবং চুপিনগর গ্রামে করতোয়া নদীর ধারের আবাদ গুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্থ। কৃষি অফিসের দেয়া পরামর্শ এবং ওষুদের দোকানের লোকেদের দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী ছত্রাক নাশক এবং কীটনাশক ছিটিয়েও কোন সুফল পাচ্ছেন না। জমিতে বৃস্টির পানি জমতে না দেয়ার জন্য নালাও করে দিয়েছেন। সরেজমিনে আবাদি জমি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়ার জন্য কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ রেখেছেন এই কৃষকরা।
শাজাহানপুর উপজেলা সহকারী কৃষি অফিসার উম্মে হাবীবা এবং কৃষি অফিসের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন অফিসার সাইদুল ইসলাম জানান, কৃষকরা অনিয়মিত ভাবে অতি মাত্রায় প্রায় ৭থেকে ৮টি বিভিন্ন প্রকারের ওষুধ একত্রিক করে ককটেল আকারে জমিতে ছিটাচ্ছেন। এতে গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। বর্তমানে লাগাতারা বৃস্টির কারণে জমি ভেজা থাকছে এবং রোগ বালাইয়ের বিস্তার বেড়েছে। ওষুধ দেয়ার পরেই বৃস্টিতে তা ধুয়ে যাচ্ছে তাই ওষুধেও কাজ হচ্ছেনা। এমন বৈরী আবহাওয়া চলাকালীন সময়ে কৃষকদের ধের্য সহকারে অপেক্ষা করতে হবে। বৃস্টি শেষ হওয়ার সাথেই ছত্রাক নাশক ছিটিয়ে দিতে হবে এবং নস্ট হওয়া গাছ তুলে ফেলতে হবে। পরে সেই সব স্থানে নতুন করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

 

মন্তব্য