| প্রচ্ছদ

ভুক্তভোগীর পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

নওগাঁ প্রতিনিধি
পঠিত হয়েছে ২৬ বার। প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০১৯ ।

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় সোনামুল খন্দকার নামে এক ব্যক্তিকে মিথ্যা মাদক মামলা দিয়ে হয়রানি ও তাঁকে আরও মামলায় ফাঁসানোর হুমকির অভিযোগ উঠেছে তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।  মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সোনামুল খন্দকারের বাবা-মা ও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা এ অভিযোগ করেন। সোনামুল খন্দকারের বাড়ি রাণীনগর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে। তিনি কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে সোনামুলের বাবা সমতুল খন্দকারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তাঁর খালাতো ভাই আব্দুস সোবহান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় সোনামুলের বাবা সমতুল খন্দকার ও তাঁর মা বেবি খাতুন উপস্থিত ছিলেন। 
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ২১ মে উপজেলার জামালগঞ্জ বাজার সড়কের পাগলীর মোড় এলাকায় একটি দোকানে গ্রিলের কাজ করার সময় মাদক ব্যবসায়ী অভিযোগে মানিক ইসলাম এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় ওই মোড়ের একটি দোকান থেকে ১৩ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করে। পরে তাঁর বিরুদ্ধে রাণীনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইফতেখারুল মোকাম্মেল বাদী হয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় সোনামুলকে ২ নম্বর আসামি করা হয়। মামলার এজহারে বলা হয়, সোনামুল পাগলির মোড়ে ১৩ পুরিয়া হেরোইন ফেলে রেখে পালিয়ে যান এবং পরে তল্লাসি চালিয়ে সোনামুলের অফিস ঘর থেকে ৮৭ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করে পুলিশ। 
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, মামলার সাক্ষি সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) লুৎফর রহমান ছাড়া আরও স্থানীয় যেসব ব্যক্তিকে সাক্ষী করা হয়েছে তাঁরা সোনামুলের হলফনামার দিয়ে বলেছেন, অভিযানে এসে পুলিশ সদস্যরা ১ নম্বর আসামির কাছ হেরোইন উদ্ধার করেননি এবং ২ নম্বর আসামি সোনামুলকে তাঁরা ওই স্থানে দেখেননি। মামলার এজহারে সোনামুলের অফিস ঘর উল্লেখ করে যে স্থান থেকে পুলিশ হেরোইন উদ্ধার করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তা সোনামুলের নয়। ওই অফিসের মূল মালিক ও ভাড়াটিয়া হলফনামা করে তা সোনামুলের নয় বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এ অবস্থায় সোনামুলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁর স্বজনেরা থানা ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে দেন দেরবার শুরু করলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফইম উদ্দিন, মামলার বাদী উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইফতেখারুল মোকাম্মেল ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) লুৎফর রহমান জনসম্মুখে হুমকি দিয়ে বলেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাঁরা সোনামুলকে এরকম আরও ৪-৫টি মামলায় জড়িত করবেন। এ অবস্থায় পুলিশ কর্মকর্তাদের হুমকি-ধামকিতে সোনামুলের পরিবারের লোকজন ভীত হয়ে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এর সুবিচার দাবি করেন তাঁরা। 
অভিযোগের বিষয়ে মামলার বাদী উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইফতেখারুল মোকাম্মেল বলেন, ‘পাগলির মোড়ে অভিযান পরিচালানার সময় যে স্থান থেকে মাদক উদ্ধার করা হয় সেখানে মানিক, সোনামুল ও জহুরুল অবস্থান করছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সোনামুল ও জহুরুল আগেই পালিয়ে যান এবং মানিককে আমরা হাতেনাতে গ্রেপ্তার করি। এখানে আমরা কাউকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলায় জড়ায়নি। যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই মামলা করা হয়েছে।’
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘এ থানায় আমি নতুন এসেছি। আগের ওসি থাকা অবস্থায় ওই মামলাটি হয়েছে। তবে আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি, মামলাটি ইতোমধ্যে অভিযোগপত্র গঠন করে আদালতে দেওয়া হয়েছে। সোনামুলের বিরুদ্ধে এর আগেও চার-পাঁচটি মাদকের মামলা রয়েছে। ওই মামলাগুলোও চলমান রয়েছে।’ 
জানতে চাইলে নওগাঁর পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান মিয়া বলেন, ‘রানীনগর থানার তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। এখানে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হলে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

মন্তব্য