| প্রচ্ছদ

যেভাবে অনলাইনে পরিচালিত হত সেই সেলিমের ক্যাসিনো ব্যবসা

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৩৭ বার। প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০১৯ ।

অনলাইনে কিভাবে খেলা হয় ক্যাসিনো আর কিভাবেই এ টাকা সংগ্রহ করা হয়, এমন প্রশ্নের উত্তর মিলেছে বাংলাদেশে অনলাইনে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার মূলহোতা সেলিম প্রধানকে আটকের পর। একে একে বেরিয়ে আসছে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার মূল রহস্য।

উত্তর কোরিয়ার নাগরিক মি. দোয়ের সঙ্গে অর্ধেক পার্টনারশিপে পি-২৪ ও টি-২১ নামে দু’টি অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনা করতেন সেলিম প্রধান। যা তার মালিকানাধীন প্রধান গ্রুপের ওয়েবসাইটেও স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। অনলাইন ক্যাসিনো থেকে অর্জিত আয় বিশেষ পন্থায় সংগ্রহ করে পাচার করা হতো বিদেশে।

অনলাইনে ক্যাসিনো খেলতে হলে একটি গেমিং সফটওয়্যার মোবাইলে ইনস্টল করতে হত। সেখানে অনেক ধরনের গেমস রয়েছে। গেমসগুলোতে পুরোপুরি বাংলায় নির্দেশনা দেয়া আছে। তবে গেমসগুলোতে প্রবেশ করতে হলে গ্রাহককে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যকাউন্ট বা ক্রেডিট কার্ডের প্রয়োজন হয়। নির্ধারিত গেমসের জন্য নির্ধারিত টাকা থাকতে হতো অ্যাকাউন্টে। অন্যথায় খেলা সম্ভব হত না।

খেলা শুরুর পর নির্ধারিত ওই টাকা তিনটি অনলাইন গে‌টওয়েতে জমা হত। গ্রাহক খেলায় জিতলে টাকা অ্যাকাউন্টে ফেরত যেত, অন্যথায় গেটওয়েতে থেকে যেত।

এরপর প্রতি সপ্তাহে সেলিম প্রধানের সহকারী আক্তারুজ্জামান সেসব গেটওয়ে থেকে টাকাগুলো তিনটি অ্যাকাউন্টে জমা করতেন। এরপর সেসব টাকা হুন্ডি অথবা ব্যক্তির মাধ্যমে লন্ডনসহ বিভিন্ন দেশে পাচার হয়ে যেত।

মঙ্গলবার বিকালে সেলিম প্রধানের বাসা ও অফিসে অভিযান শেষে এক বিবৃতিতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, র‌্যাবের সাইবার মনিটরিং সেল ধারাবাহিক তদন্তে জানতে পারে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অনলাইনে ক্যাসিনো পরিচালনা করে আসছে। এর ভিত্তিতে আমরা অপারেশন প্ল্যান করি। এরমধ্যেই খবর পাই, অনলাইন ক্যাসিনোর মূলহোতা সেলিম প্রধান দেশ ছাড়ছেন।

তৎক্ষণাৎ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থাইল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইট থেকে তাকে আটক করি। এরপর সোমবার সন্ধ্যা থেকে আমরা সেলিম প্রধানের বাসা ও অফিসে অবস্থান নেই। পুরো প্রক্রিয়াটিকে পূর্ণ নিরীক্ষা করে আমাদের অভিযান শেষ করতে অনেক সময় লেগেছে।

তিনি বলেন, এ অভিযানে তার বাসা ও অফিস থেকে ৪৮টি বিদেশি মদ, ২৯ লাখ টাকা, ২৩টি দেশের মোট ৭৭ লাখ সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা, ১২টি পাসপোর্ট, ২টি হরিণের চামড়া, ২৩টি ব্যাংকের ৩২টি চেক, ৪টি ল্যাপটপ ও অনলাইন গেমিং পরিচালনার একটি বড় সার্ভার জব্দ করা হয়েছে।

আটক সেলিমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালে ঢাকায় জন্ম নেওয়া সেলিম ১৯৮৮ সালে ভাইয়ের সহযোগিতায় জাপান চলে যান। এরপর সেখানে গাড়ির ব্যবসা শুরু করেন তিনি। এক পর্যায়ে জাপান থেকে থাইল্যান্ডে গিয়ে শিপ ব্রেকিংয়ের ব্যবসা শুরু করেন।

সেখানে উত্তর কোরিয়ার নাগরিক মি. দো এর সঙ্গে পরিচয় হয় তার। মি. দো বাংলাদেশে তার মাধ্যমে বিনিয়োগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং অনলাইনে ক্যাসিনো ব্যবসার পরামর্শ দেন। তার ব্যবসায়িক সব নথি পর্যালোচনা করে জানা গেছে, মি. দো ও সেলিমের উভয়ে অর্ধেক-অর্ধেক মালিকানায় রয়েছেন।

সেলিম গত ১ বছর ধরে অনলাইনে ক্যাসিনো ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। এর মাধ্যমে মোট কি পরিমাণ অর্থ উপার্জন হয়েছে এবং বিদেশে পাচার করে আসছিল তা তদন্ত সাপেক্ষে জানানোর কথা বলেছেন র‌্যাব-১ অধিনায়ক।

আটক সেলিম ও তার সহযোগী আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইন, ফরেন কারেন্সি আইন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অভিযোগ আনা হবে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য