| প্রচ্ছদ

রপ্তানি আয়ে টানা পতন

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ২২ বার। প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০১৯ ।

রপ্তানি আয়ে হোঁচট খেল বাংলাদেশ। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রপ্তানি আয়ে অর্জিত হয়নি লক্ষ্যমাত্রা, কমেছে প্রবৃৃদ্ধির হার। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৯৬৪ কোটি ৭৯ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তবে এ আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ কম। একই সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও আয় কমেছে ১১ দশমিক ০৫ শতাংশ। গতকাল রবিবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত পণ্য রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে প্রবৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করতে পারেনি দেশের তৈরি পোশাক খাত। চলতি অর্থবছরের তিন মাসে ৮০৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। একই সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় কমেছে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। এদিকে একক মাস হিসেবে সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয় অর্জিত হয়েছে ২৯১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

ইপিবির প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে সব ধরনের পণ্য রপ্তানিতে বৈদেশিক মুদ্রার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষ রপ্তানি আয় অর্জিত হয়েছে ৪ হাজার ৫৩ কোটি ৫০ লাখ ৪ হাজার ডলার। চলতি অর্থবছর প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রপ্তানির আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৮৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এই তিন মাসে রপ্তানি আয় এসেছে ৯৬৪ কোটি ৭৯ লাখ মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১১ দশমিক ০৫ শতাংশ কম। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে রপ্তানি আয় অর্জিত হয়েছিল ৯৯৪ কোটি ৬ লাখ ডলার। সে হিসাবে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

জানা যায়, দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এ খাত থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রপ্তানি আয় এসেছিল ৩ হাজার ৪১৩ কোটি ৩২ লাখ ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে তৈরি পোশাক খাতে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় অর্জিত হয়েছে ৮০৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আয় এসেছিল ৮১৯ কোটি ১৬ লাখ ডলার। সে হিসাবে এ খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি কমার পাশাপাশি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি তৈরি পোশাক খাত। লক্ষ্যমাত্রা কমেছে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত তিন মাসে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় এসেছে ৪১৭ কোটি ২ লাখ ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ের শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কম। একই সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রা কমেছে ৭ দশমিক ২০ শতাংশ। অন্যদিকে ওভেন পোশাক রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৩৮৮ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ কম। পাশাপাশি ১৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা কমেছে ওভেনে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রপ্তানিকারক ও উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেন, ঈদ উপলক্ষে আমাদের অগ্রিম কিছু অর্ডার নেওয়া ছিল। সেগুলো সাপ্লাই দেওয়া হয়ে গেছে। এজন্য রপ্তানি আয়ে একটু ভাটা মনে হচ্ছে। আশা করি সামনের দিনে আয় বাড়বে।

ইপিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ ও লক্ষ্যমাত্রা ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে এ খাত থেকে আয় এসেছে ১৯ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের তিন মাসে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ কম প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে। এ খাত থেকে আয় এসেছে ২৫ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। গত অর্থবছরজুড়েও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে আয় ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এদিকে গত তিন মাসে প্লাস্টিক পণ্যে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ১৮ দশমিক ১ শতাংশ। এ সময়ে আয় হয়েছে ৩ কোটি ১৫ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ কম। গত তিন মাসে হোম টেক্সটাইল খাতে প্রবৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রা দুটিই কমেছে। এ সময় আয় এসেছে ১৭ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর শেষে কৃষি পণ্য রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রা কোনোটাই অর্জিত হয়নি। এ খাত থেকে আয় এসেছে ২৬ কোটি ২৫ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অন্যদিকে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি কমেছে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ।

মন্তব্য