| প্রচ্ছদ

‘আবরার শিবিরকর্মী নয়, তাবলীগে যেত’: বাবা আ’লীগের সমর্থক

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
পঠিত হয়েছে ৭৭ বার। প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০১৯ ।

সপ্তাহ খানেক আগে ছুটিতে বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন আবরার ফাহাদ। তবে বাড়িতে এসে পড়ালেখা ঠিক মত না হওয়ায় আগেভাগেই ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। রোববার সকালে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন আবরার। এরপর ঢাকায় পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত ফোনে চারবার মায়ের সঙ্গে কথা হয় আবরারের। পরে বিকেলের দিকে বুয়েটের হলে পৌঁছেও মাকে ফোন দিয়ে জানান বিষয়টি। মোবাইলে এটিই মায়ের সঙ্গে তার শেষ কথা। এরপর সারারাত ফোন দিয়েও ছেলের খবর না পেয়ে বিচলিত হয়ে উঠেন মা রোকেয়া। সকালে উঠে খবর পান ছেলে আর বেঁচে নেই।খবর সমকাল অনলাইন।

ছেলেকে হারিয়ে এখন আবরারের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের বাড়ির পাশেই আবরারদের বাসা। এখন তাদের বাড়িজুড়ে আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতিদের ভিড়। ছেলের শোকে বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন রোকেয়া খাতুন। 

আবরারদের গ্রমের বাড়ি কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে। দুই ভাইয়ের মধ্যে আবরার ফাহাদ বড়। ছোট ভাই আবরার ফায়াজ ঢাকা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। বাবা বরকতুল্লাহ বেসরকারি সংস্থা ব্রাকের কর্মকর্তা। মা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনে পড়ান।

পরিবার জানিয়েছে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ছোট বেলা থেকেই মেধাবী। লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকতো সারাদিন। আর বাড়ি থেকে ফেরার দিনই তাকে এভাবে কেউ হত্যা করতে পারে তা ভাবতেও পারেননি পরিবারের লোকজন।  

আবরারের চাচা মিজানুর রহমান বলেন, 'সে শিবিরের কর্মী নয়। অথচ এমন কথা রটাচ্ছে সবাই। এটা বানোয়াট, আমরা সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক। হানিফ সাহেবের বিভিন্ন মিটিংয়েও আমরা যাই। আবরার এমনিতে তাবলীগে যেত। বুয়েটে ভর্তির পর দুই–তিনবার সে তাবলীগে গিয়েছিল।'

আবরারের প্রতিবেশী ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা বলেন, 'বরকত চাচা (আবরারের বাবা) ও আর আমার গ্রামের বাড়ি পাশাপাশি। বরকতুল্লাহরা ৫ ভাইয়ের মধ্যে একজন ছাড়া সবাই আওয়ামী লীগ সমর্থক ছিলেন। আববারের বাবা বরকত আওয়ামী লীগের একজন পাকা সমর্থক। অনেক মিছিল মিটিং তিনি আমাদের সঙ্গে করেছেন। দলের দুঃসময়ে তিনি আওয়ামী লীগের ভোট করেছেন। তবে আববারের ছোট চাচা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির করতো বলে শুনেছি।'

কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল ইসলাম স্বপন বলেন, আবরারের পরিবার কোনো সদস্য সরসারি কোনো দলের রাজনীতি করতো না। 

আববারের মা রোকেয়া কাঁদতে কাঁদতে বলেন, 'ছেলে আমার খুবই শান্ত ছিল। সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতো। কারা আমার নিরীহ ছেলেকে মারলো তা খুঁজে বের করতে হবে। তাদের শাস্তি দিতে হবে।'

পিটিআই এলাকার বাসিন্দারা জানান, আবারারের পরিবারের সবাই খুবই ভালো। কুষ্টিয়াতে আসলে স্থানীয় মসজিদে নামাজ আদায় করতো আবরার।

আবরারের পারিবার জানিয়েছে, বরকতুল্লাহ ছেলের মরদেহ আনার জন্য ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। লাশ কুষ্টিয়া আনার পর মঙ্গলবার সকালে গ্রামের বাড়ি কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গায় তার দাফন করা হবে।

মন্তব্য