নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

বগুড়ার শেরপুর উপজেলা অফিসার্স ক্লাব নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ

শেরপুর(বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৩ ১৮:১৯ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে ৬১ বার।

বগুড়ার শেরপুরে অফিসার্স ক্লাবের নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন না করেই তফসিল ঘোষণা ছাড়াই কাগজ-কলমের ওই নির্বাচনী ফলাফল প্রত্যাখান করেছেন ক্লাবের খোদ সদস্যরা। এমনকি বিতর্কিত ওই নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হওয়া উপজেলা প্রকৌশলী লিয়াকত হোসেনকেও অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন তারা।

 

এদিকে অফিসার্স ক্লাবের ওই নির্বাচন নিয়ে ক্লাবের সদস্য উপজেলার সরকারি কর্মকর্তারা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে উপজেলা প্রশাসনে চেইন অব কমাণ্ড ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত ২০জুলাই সরকারি কর্মকর্তাদের সংগঠন উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলা প্রকৌশলী লিয়াকত হোসেন ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সামিদুল ইসলাম ওই পদে প্রার্থী হন। উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রকৌশলী লিয়াকত হোসেন জয়ী হন।


কিন্তু ওই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্লাবের সিংহভাগ সদস্য। তাদের অভিযোগ, অফিসার্স ক্লাবের নির্বাচনে গঠনতন্ত্রের সব ধারা লঙ্ঘণ করা হয়েছে। গঠনতন্ত্রে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের নির্দেশনা থাকলেও সেটি করা হয়নি। এমনকি নির্বাচনের আগে কোনো তফসীলও ঘোষণা করা হয়নি। কেবল কাগজে-কলমে নির্বাচন দেখিয়ে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এছাড়া ক্লাবের অধিকাংশ সদস্য ভোটের বিষয়টি জানেন না।


ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ক্লাবের সদস্য সংখ্যা মোট ৮০জন। এরমধ্যে ৬৮জন সদস্য নিয়মিত চাঁদা পরিশোধ করেন। কিন্তু ওই নির্বাচনে কেবল ২২জন সদস্য তাদের মতামত দেন। বাকিরা সবাই অনুপস্থিত ছিলেন। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবাই তরিঘরি করে নির্বাচন না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের মতামত উপেক্ষা করে সব নিয়ম ভেঙে হয়তো নির্বাচন করায় তারা কেউ অংশ নেননি।

 

একই মন্তব্য করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাজিদ হাসান লিংকন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শারমিন আক্তারসহ একাধিক দপ্তরের কর্মকর্তারা। তাঁদের দাবি, বির্তকিত নির্বাচন আমরা মানি না। তাই সেই নির্বাচনের ফলাফল আমরা প্রত্যাখান করছি। একতরফা নির্বাচনে জয়ী সাধারণ সম্পদককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার কোনো সিদ্ধান্তে ক্লাব চলবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা। এসব কর্মকর্তারা আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে ক্লাবের সব সদস্যদের নিয়ে শনিবার জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। সেখানেই সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী লিয়াকত হোসেন বলেন, আনন্দঘন পরিবেশেই নির্বাচন হয়েছে। সেখানে গুরুত্ব সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এতে আমি বিজয়ী হয়েছি। তবে ক্লাবের কতিপয় সদস্য সেটি মানতে নারাজ। তাই বিভিন্ন ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে নির্বাচন ও ফলাফল বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন। তিনি এহেন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহবান।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানা বলেন, অফিসার্স ক্লাবের নির্বাচন নিয়ে সদস্যদের মধ্যে একটু ভুল বোঝাবুঝি তৈরী হয়েছে। আলোচনার মাধমে সেটি দ্রুতই সমাধান হয়ে যাবে বলে দাবি করেন তিনি।