মারা গেছেন নওগাঁর প্রবীণ রাজনীতিবিদ ফজলে রাব্বি
নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ.কে.এম ফজলে রাব্বি বকু মারা গেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ঢাকায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মেয়ের বাড়িতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টা ১৫ মিনিটে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি চার মেয়ে ও স্ত্রী সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে জেলার আইনজীবী, আইনজীবী সহকারি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করেছে।
জানা গেছে- ১৯৩৮ সালের ১ অক্টোবরে বগুড়া জেলার আদমদিঘী থানার হালালিয়া ছাতনী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এ.কে.এম ফজলে রাব্বি বকু। তিনি ১৯৫২ সালে এসএসসি, ১৯৫৬ সালে এইচএসসি ও ১৯৬২ সালে বিএ পাশ করেন। এরপর ১৯৬৬ সালে এলএলবি পড়াশুনা শেষ করে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে নওগাঁ শহরের চকদেব পাড়া মহল্লায় বসবাস শুরু করেন। ২০১৭ ও ২০২২ সালে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। মোট তিনবার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়াও নওগাঁর ঐতিহ্যবাহী অন্বেষা নিশান ক্লাবের উপদেষ্টা ও ঝটিকা ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথেও যুক্ত ছিলেন। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর থেকে ঢাকায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মেয়ের বাড়িতে ছিলেন।
মরহুম অ্যাডভোকেট এ.কে.এম ফজলে রাব্বি বকুর ব্যক্তিগত সহকারি শাহেদুজ্জামান সুইট বলেন- মরহুমের প্রথম নামাজে জানাযা ঢাকায় রাত সাড়ে ১০ টায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দ্বিতীয় নামাজে জানাযা শুক্রবার বাদ জুমা নওগাঁ শহরের নওযোয়ান মাঠে এবং তৃতীয় নামাজে জানাযা মরহুমের গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলার আদমদিঘী থানার হালালিয়া ছাতনী গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
নওগাঁ জেলা অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ.এইচ.এম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সিনিয়র আইনজীবী এ.কে.এম ফজলে রাব্বি বকুর মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। ঈদ-উল-ফিতর এর ছুটি থাকায় আমাদের বার অ্যাসোসিয়েশনে নামাজে জানাযা হচ্ছে না। তবে ছুটি শেষে আগামী রোববার আদালতের কার্যক্রম শুরু হলেও আমাদের বার অ্যাসোসিয়েশনে পক্ষ থেকে একদিনের কর্মবিরতি পালন করা হবে। শহরের নওযোয়ান মাঠে এবং মরহুমের গ্রামের বাড়িতে নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।