অবশেষে নওগাঁয় ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী কামরুলকে গ্রেপ্তার করল সিআইডি

নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ২০:২১ ।
প্রতিবেশী জেলা
পঠিত হয়েছে বার।

নওগাঁর মান্দায় আলোচিত ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলাম ওরফে মোকসেদ(৩০)কে গ্রেফতার করেছে সিআইডি পুলিশ। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সন্তানের পিতৃত্বের প্রমাণ পাওয়ায় রবিবার দুপুরে নওগাঁ আদালত চত্বর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত কামরুল মান্দা উপজেলার শোভাপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তোজাম্মেল হক।

সিআইডি সূত্র জানায়, মান্দা উপজেলা একটি মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাবের পাশাপাশি অনৈতিক সম্পর্ক এর প্রস্তাব দিয়ে আসছিল কামরুল। ওই শিক্ষার্থী রাজি না হওয়ায় তাকে হত্যার হুমকিও দেয় সে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে কামরুল।  সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই কামরুলের বাড়িতে সুযোগ পেয়ে আবারও তাকে ধর্ষণ করা হয়।

পরবর্তীতে কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ করে পরিবার স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করালে ২৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে রিপোর্ট আসে।

বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে কামরুলকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন।

এরপর কিশোরীর বাবা ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি মান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। শুরুতে থানার তদন্ত কর্মকর্তা কামরুলের সম্পৃক্ততা না পেয়ে তাকে অব্যাহতি দিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন। বাদী এ রিপোর্টে নারাজী জানালে আদালত সিআইডিকে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তোজাম্মেল হক জানান, ভুক্তভোগীর বর্ণনার ভিত্তিতে ছয় মাস আগে কামরুলসহ তিনজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়। গত ২৬ নভেম্বর প্রাপ্ত ডিএনএ রিপোর্টে দেখা যায়, কিশোরীর নবজাতকের সঙ্গে কামরুলের ডিএনএ মিল রয়েছে।

আজ রবিবার সকালে বিষয়টি জানাতে কামরুলকে সিআইডি অফিসে ডাকা হয়। রিপোর্টের বিষয়টি আগে থেকেই আঁচ করতে পেরে কামরুল কৌশলে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে আদালত চত্বর থেকে তাকে আটক করা হয়।