রাণীনগরে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী “বয়লাগাড়ি” মেলা অনুষ্ঠিত
কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর রাণীনগরে তিন দিনব্যাপী গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী “বয়লাগাড়ি” মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পৌষ সক্রান্তি উপলক্ষে উপজেলার পারইল ইউনিয়নের বড়গাছা গ্রামের পূর্ব মাঠে মঙ্গলবার সকাল থেকে তিন দিনব্যাপী এই মেলা শুরু হয়। শত বছরের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে স্থানীয়রা প্রতি বছর এই মেলার আয়োজন করে থাকেন। এবার কনকনে শীতেও জমজমাট হয়ে উঠে “বয়লাগাড়ি” মেলা।
মেলার প্রথমদিন মূল আকর্ষন বড় বড় “মাছ”। মেলায় বিভিন্ন প্রজাতীর বড় বড় মাছ ওঠে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে মাছ বেচা-কেনা। জামাইয়েরাসহ প্রতিটি বাড়িতে সাধ্যমত মাছ কেনার যেন ধুম পড়ে যায়। মেলার দ্বিতীয় দিন বুধবার অনুষ্ঠিত হয় ‘বউ মেলা’। এরপর বৃহস্পতিবার শেষ হয় মেলা।
জানা যায়, উপজেলার সবচেয়ে বড় মেলা এটি। শতবছর পূর্বে স্থানীয়দের উদ্যোগে বড়গাছা গ্রামের পূর্বমাঠে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ এ মেলা শুরু হয়। মেলাটি “বয়লাগাড়ি মেলা” নামে পরিচিত পায়। এরপর থেকে প্রতিবছর স্থানীয়রা উদ্যোগ নিয়ে পৌষ মাসে এ মেলার আয়োজন করেন। প্রতি বছরের মত এবছরেও মঙ্গলবার সকাল থেকে তিন দিনব্যাপী বয়লাগাড়ি মেলা শুরু হয়। মেলায় রাণীনগর উপজেলাসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার নানা শ্রেণী-পেশার হাজার হাজার মানুষের আগমন ঘটে।
সরেজমিনে মেলা ঘুরে দেখা গেছে, সকল প্রকার পন্য সামগ্রীসহ সকল দোকানপাট বসেছে। সবকিছু মিলছে এ মেলায়। বিভিন্ন প্রজাতীর বড় বড় মাছ, হরেক রকমের মিষ্টি, মিঠাইসহ অন্যান্য খাবারের জিনিস, মেয়েদের জন্য চুড়ি-ফিতাসহ গৃহসামগ্রী, শিশুদের বিনোদনের জন্য খেলনা সামগ্রী ও নাগরদোলাসহ বিভিন্ন দোকানপাট বসানো হয়েছে। মেলাতে ঘুরছে হাজার হাজার মানুষ। কেউ কেনা-কাটা করছে আবার কেউ মেলা ঘুরে আনন্দ উপভোগ করছেন।
মাছ বাজারে এলাকার জামাইসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ মেলায় যেন মাছ কেনার প্রতিযোগীতায় নামেন। যে যার সাধ্যমত কিনছে মাছ। ১৭ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ কিনেছেন সিহাব নামে এক যুবক। তিনি জানালেন, মেলা উপলক্ষে শ্বশুরবাড়ি এসেছেন। মেলার প্রথমদিন মূল আকর্ষন বড় বড় মাছ। তাই মেলা থেকে ১৭ কেজি ওজনের বড় একটি কাতলা মাছ সাড়ে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছেন তিনি।
মেলায় ঘুরতে আসা কিশোর ইমরান সরদার বলেন, এ মেলা ঐতিহ্যবাহী একটি মেলা। প্রতিবছর আমরা এই মেলায় এসে অনেক কেনাকাটা করে থাকি। সেইসাথে ঘুরে আনন্দ উপভোগ করি।
বয়লাগাড়ি মেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমান বাচ্চু বলেন, ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে প্রতি বছর এই মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গন যেন মিলন মেলায় পরিণত হয়ে উঠে।