শতবর্ষের ঐতিহ্যে মানবতার আলো: আকবরিয়া লিমিটেডের অনন্য গল্প

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ ১৮:১৩ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে বার।

উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্য, আস্থা ও মানবতার প্রতীক হিসেবে যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়, তার মধ্যে অন্যতম আকবরিয়া লিমিটেড। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি মানবসেবা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অসংখ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে প্রতিষ্ঠানটি উত্তরবঙ্গের মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। বগুড়া তথা উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে আকবরিয়া কেবল একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নাম নয়—এটি একটি ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

 

 

শতবর্ষের ঐতিহ্য ও ইতিহাস: ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯০৫ সালে মোঃ খোশজাহান আলী "মুহাম্মদ আলী রেস্টুরেন্ট" নামে একটি ছোট রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করেন। ছয় বছর পর ১৯১১ সালে এর নামকরণ করা হয় 'আকবরিয়া গ্র্যান্ড হোটেল'। পরবর্তীতে তাঁর পুত্র মোঃ আকবর আলী বাবার কাছ থেকে ব্যবসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। জনশ্রুতি রয়েছে, একসময় বগুড়ার নওয়াব পরিবারের সদস্যরাও এই রেস্টুরেন্টে আসতেন। তাঁদের প্রতি সম্মান জানিয়ে আকবর আলী রেস্টুরেন্টটির নাম দেন 'মোহাম্মদ আলী রেস্টুরেন্ট'। পরবর্তীতে ব্যবসার বিস্তার ঘটতে থাকে এবং ধীরে ধীরে এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম পরিচিত খাদ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

 

 

শিল্পগোষ্ঠীতে পরিণত হওয়ার গল্প: ১৯৭৫ সালে আকবর আলীর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলেরা ব্যবসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়া হয় হাসান আলী আলালের হাতে। বর্তমানে তিনি আকবরিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে আকবরিয়া রেস্টুরেন্ট ব্যবসার গণ্ডি ছাড়িয়ে একটি বড় শিল্পগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে।

 

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বিস্কুট, পাউরুটি, চানাচুর, কেক, দই, মিষ্টি, লাচ্ছা সেমাইসহ নানা ধরনের বেকারি ও খাদ্যপণ্য উৎপাদন করছে। বগুড়া ছাড়াও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আকবরিয়ার পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে এবং তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

 

 

কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে অবদান: আকবরিয়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। অসংখ্য শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। পাশাপাশি নিয়মিত কর প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আকবরিয়া বগুড়ার অন্যতম শীর্ষ করদাতা হিসেবেও পরিচিত।

 

 

খাদ্যের মানে আপসহীন: খাদ্যের গুণগত মানের ক্ষেত্রে আকবরিয়া বরাবরই আপসহীন। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের ওপর প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ গুরুত্ব দেয়। কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে শুরু করে উৎপাদন ও পরিবেশন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়।

 

 

মধ্যরাতে খাবার বিতরণ: প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই আকবরিয়া মানবসেবাকে তাদের অন্যতম আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিদিন মধ্যরাতে দরিদ্র, অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করা হয়। অনেক প্রতিষ্ঠান অবশিষ্ট খাবার বিতরণ করলেও আকবরিয়া দরিদ্র মানুষের জন্য আলাদাভাবে খাবার রান্না করে প্রতিদিন শত শত মানুষের হাতে গরম ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার তুলে দেয়। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলমান এই মানবিক উদ্যোগ দেশের ব্যবসায়িক ইতিহাসে সত্যিই বিরল।

 

 

বহুমুখী সমাজসেবা: মানবসেবার ক্ষেত্রে আকবরিয়ার কার্যক্রম অত্যন্ত বিস্তৃত ও বহুমুখী। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে প্রায় ৮০টি মক্তব পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে শিশুদের কোরআন শিক্ষা ও নৈতিকতা শেখানো হয়। পাশাপাশি দরিদ্র শিশুদের জন্য বিনামূল্যের পাঠশালাও পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, চোখের ছানি অপারেশন, শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণ, শিক্ষা সহায়তা এবং অসহায় মানুষের পুনর্বাসনের মতো নানা সামাজিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

 

 

তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্তকরণ: সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করতে কাজ করে যাচ্ছেন চেয়ারম্যান হাসান আলী আলাল। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় সম্প্রতি বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে ইমাজিং কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

মানবিক নেতৃত্ব: সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম হলেও সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত হাসান আলী আলাল শৈশব থেকেই মানবপ্রেমী হিসেবে পরিচিত। এতিম ও দরিদ্র মানুষের খাদ্য, বস্ত্র ও শিক্ষা সহায়তা, দরিদ্র নারীদের সেলাই মেশিন প্রদান, মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি এবং দুর্যোগকালে ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত।

 

 

হাসান আলী আলাল বলেন, আমাদের পিতা সবসময় বলতেন—মানবতা পরম ধর্ম। সেই শিক্ষা থেকেই আমরা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

 

 

মানবতার আলোকবর্তিকা: শত বছরেরও বেশি সময় ধরে মানবিক উদ্যোগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আকবরিয়া লিমিটেড বগুড়া তথা উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে মানবতার এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়ার যে সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠানটি ধরে রেখেছে, তা উত্তরবঙ্গের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।