বগুড়ায় জমি বিক্রির টাকা লুটে বাধা দেওয়ায় গলা কেটে রিতা মজুমদারকে হত্যা: পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ ১৬:২৮ ।
প্রধান খবর
পঠিত হয়েছে ১৫৯ বার।

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মমিনহাটা গ্রামে গলা কেটে রিতা মজুমদার নামে এক গৃহবধূকে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জমি বিক্রির টাকা লুটের পরিকল্পনা থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মির্জা সায়েম মাহমুদ।

 

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মমিনহাটা পূর্বপাড়ার ফরিদ প্রামানিকের ছেলে শাওন মিয়া(২০) এবং একই এলাকার মোকলেছের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৫)। তারা দুজনেই পেশায় দিনমজুর। 

 

পুলিশ সুপার বলেন, গত ২০ মে রাতে রিতা মজুমদার ও তাঁর স্বামী বিধান মজুমদার রাতের খাবার শেষে আলাদা কক্ষে ঘুমাতে যান। রাত সোয়া ১২টার দিকে একটি শব্দ শুনে বিধান মজুমদার জেগে ওঠেন। কয়েক মিনিট পর স্ত্রীর কক্ষ থেকে চিৎকার শুনে তিনি লাঠি নিয়ে সেখানে যান। গিয়ে দেখেন, কক্ষের দরজা খোলা এবং ভেতরে রিতা মজুমদার রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন। তাঁর গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। পরে স্থানীয় লোকজনকে ডাকাডাকি করলে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর গাবতলী থানা-পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করে। 

 

তদন্তের একপর্যায়ে গত শনিবার রাতে শাওন মিয়াকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আনোয়ার হোসেনের নাম জানান। পরে পুলিশ আনোয়ারকেও গ্রেপ্তার করে।

 

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, আনোয়ার ও শাওন একসঙ্গে দিনমজুরের কাজ করতেন। প্রায় ১০ দিন আগে আনোয়ার জানতে পারেন, রিতা মজুমদারের বাড়িতে জমি বিক্রির টাকা রয়েছে। এরপর দুজন মিলে টাকা লুটের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আনোয়ার স্থানীয় বাজার থেকে দুটি হাসুয়া কিনে আনেন। ঘটনার রাতে রিতা মজুমদার ও তাঁর স্বামী বাড়ির বাইরে ধান ও খড় তোলার কাজে গেলে দুই আসামি বাড়িতে ঢুকে গরুর খাবার রাখার ঘরে লুকিয়ে থাকেন। পরে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে রাত সোয়া ১২টার দিকে শাওন দরজায় ধাক্কা দেন। শব্দ পেয়ে রিতা মজুমদার টর্চলাইট নিয়ে বাইরে বের হলে তিনি আনোয়ারকে চিনে ফেলেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে আনোয়ার তাঁর হাতে থাকা হাসুয়া দিয়ে রিতার গলায় কোপ দেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

 

 

পুলিশ সুপার আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা ব্যবহৃত দুটি হাসুয়া লুকিয়ে রাখেন। পরে সেগুলো বয়ারবাড়ী বিলের কচুরিপানার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। রোববার দিবাগত রাতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি হাসুয়া উদ্ধার করে। আসামিদের কাছ থেকে হত্যার সময় পরিহিত পোশাক, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিমকার্ডও জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের আদালত পাঠানো হবে।