নওগাঁয় ‘উচ্চারণ পাঠশালা’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উৎসব
নওগাঁ প্রতিনিধি
সাম্যবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মেলবন্ধনে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হল রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উৎসব। নওগাঁর অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘উচ্চারণ পাঠশালা’র উদ্যোগে রবিবার সন্ধ্যায় শহরের ‘মৌসুমী বিদ্যানিকেতন’ মিলনায়তনে এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী গান, কবিতা ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে সাজানো হয় পুরো আয়োজন। সম্প্রীতির বাণী ছড়িয়ে দিতে এবং দুই মহান কবির সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের মাঝে স্মরণ করিয়ে দিতেই এই বিশেষ উদ্যোগ এবং অনুষ্ঠানটি সফল করতে সার্বিক সহযোগিতায় করেছে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মৌসুমী বিদ্যানিকেতন।
এই বিশেষ আয়োজনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরবেন চিকিৎসক ও সংস্কৃতিজন ড. ময়নুল হক দুলদুল, সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর শরিফুল ইসলাম খান, একুশে পরিষদ নওগাঁর সভাপতি অ্যাডভোকেট ডি এম আব্দুল বারী এবং সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আল-মেহমুদ রাসেল। এ ছাড়া বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৌসুমী বিদ্যানিকেতনের সম্মানিত শিক্ষক এনামুল হক, রাজু ও রায়হান।
সাংস্কৃতিক উৎসবের মূল পর্বে একঝাঁক ক্ষুদে ও তরুণ শিল্পীর সম্মিলিত ও একক পরিবেশন করে। কোরাস গান ও কোরাস আবৃত্তিতে সমবেতভাবে অংশগ্রহণ করে জিসান, মানছিবা, মালিহা, আস্থা, আফরা, দুরদানা এবং আরা। এরপর মঞ্চে নজরকাড়া চমৎকার নৃত্য পরিবেশন করে সুমাইয়া ও শাহরিন। অনুষ্ঠানে একক সঙ্গীত পরিবেশন করে উচ্চারণ পাঠশালার সঙ্গীত প্রশিক্ষক ও বিশিষ্ট শিল্পী পূজা দাস এবং দুই কবির কালজয়ী কবিতা আবৃত্তি করে দর্শক শ্রোতাদের মুগ্ধ করে শিশুশিল্পী আদিল, তালহা, নূরানী, রওজা এবং ঋদ্ধি। পাশাপাশি আমন্ত্রিত দর্শকদের জন্য অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল গুণী অতিথি শিল্পীদের পরিবেশনা, যেখানে বিশেষ অতিথি আবৃত্তি শিল্পী হিসেবে হাসান নয়ন এবং সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে সুরের মূর্ছনা ছড়িয়েছেন শম্পা ভট্টাচার্য।
পুরো অনুষ্ঠানটির সার্বিক পরিচালনায় করেছেন উচ্চারণ পাঠশালা নওগাঁর পরিচালক তানিয়া খন্দকার। আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি জানান যে, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল আমাদের সংস্কৃতির দুই প্রধান স্তম্ভ। তাঁদের সাম্যবাদ, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে এই চেতনা সুদৃঢ় করতেই উচ্চারণ পাঠশালা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।