পরীমনিকাণ্ডে বাধ্যতামূলক অবসরে এডিসি সাকলায়েন

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬ ২০:০৬ ।
দেশের খবর
পঠিত হয়েছে ১৩ বার।

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ঘিরে কয়েক বছর আগে ব্যাপক আলোচনায় আসা পুলিশ কর্মকর্তা মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

 

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এবং বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার এই কর্মকর্তার অবসর সংক্রান্ত আদেশ বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা হয়।

 

জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত শাখা থেকে জারি করা আদেশ অনুযায়ী, সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী জনস্বার্থে তাকে চাকরি থেকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। তবে অবসরের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ সরকারি আদেশে উল্লেখ করা হয়নি।

 

গোলাম সাকলায়েনের নাম প্রথম ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে ২০২১ সালে। সে সময় বনানী থানায় দায়ের হওয়া মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হন চিত্রনায়িকা পরীমনি। মামলার তদন্ত কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তৎকালীন ডিবি কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েন। তদন্ত চলাকালে পরীমনির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের অভিযোগ ওঠে, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

 

পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের ভেতরেও আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তাকে ডিবি থেকে প্রত্যাহার করা হয় এবং পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে পেশাগত আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পর তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়েছিল বলে সে সময় জানা গিয়েছিল।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, পুলিশ বাহিনীতে পেশাগত নিরপেক্ষতা ও আচরণগত মানদণ্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনের সময় ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা স্বার্থের অভিযোগ উঠলে তা বাহিনীর ভাবমূর্তির ওপর প্রভাব ফেলে। সেই প্রেক্ষাপটে গোলাম সাকলায়েনকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল।

 

যদিও পরীমনি–সাকলায়েন ইস্যু নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য সামনে এসেছে, তবুও সরকারি পর্যায়ে বাধ্যতামূলক অবসরের বর্তমান সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

 

পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করেন, সরকারি চাকরি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় জনস্বার্থে কোনো কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। সাধারণত দীর্ঘ প্রশাসনিক মূল্যায়ন ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ড পর্যালোচনার ভিত্তিতেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

এদিকে গোলাম সাকলায়েনের বাধ্যতামূলক অবসরের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই কয়েক বছর আগের আলোচিত পরীমনি সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহের প্রসঙ্গ টেনে আনছেন। তবে সরকারি সিদ্ধান্তের সঙ্গে সেই ঘটনার সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।