দেড় যুগ পর ভোটে ফিরল বগুড়া চেম্বার, সব পদে বিএনপি-সমর্থিত প্যানেলের জয়

স্টাফ রিপোর্টার
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে বার।

দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বিবার্ষিক (২০২৬-২০২৮) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি, সহসভাপতিসহ কার্যনির্বাহী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সব পদে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি-সমর্থিত ‘বাদল-হিরু প্যানেল’-এর প্রার্থীরা।

 রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, চেম্বারের ১ হাজার ৭৭ জন ভোটারের মধ্যে ৯৩০ জন ভোট দেন। ভোট পড়েছে ৮৬ দশমিক ৩ শতাংশ। ভোট গ্রহণ ও গণনা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

ভোট গণনা শেষে ঘোষিত ফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে ‘গোলাপ ফুল’ প্রতীকে ৬৯৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আতিকুর রহমান বাদল। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত ‘সেলিম-এরশাদ প্যানেল’-এর প্রার্থী মো. সেলিম রেজা ‘ছাতা’ প্রতীকে পেয়েছেন ২২৭ ভোট। এ পদে ৬টি ভোট বাতিল হয়েছে।

সহসভাপতি পদে ‘আনারস’ প্রতীকে ৭২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মো. হামিদুল হক চৌধুরী হিরু। অপর সহসভাপতি হিসেবে ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকে ৫৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মো. মামদুদুর রহমান শিপন।

পরিচালক পদে ২২ জন প্রার্থীর মধ্যে বাদল-হিরু প্যানেলের নয়জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন শ্রী পরিমল চন্দ্র দাস (৫৯৬), খন্দকার মেজবাহুল হক রন্টু (৬১২), মো. আজিজার রহমান মিল্টন (৫৭৯), শাহিনুর ইসলাম সবুজ (৫৬৯), এস এম নূর-ই আলম সিদ্দিকী পল্লব (৫৫৭), মো. রাসেদুল ইসলাম (৫৫৩), মো. শফিকুল ইসলাম খোকন (৫৩২), শামসুল হক বেনু (৫১২) এবং মো. মতিউর রহমান (৪৬৬) ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

বগুড়া চেম্বারে সর্বশেষ সরাসরি ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৭ সালে। এরপর দীর্ঘ সময় নির্বাচন ছাড়াই বা সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি গঠিত হওয়ায় সাধারণ সদস্যরা ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হলে এবার ভোটের আয়োজন করা হয়।

ভোট গ্রহণের শুরু থেকেই শহীদ টিটু মিলনায়তন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। ভোটাররা সুশৃঙ্খলভাবে কেন্দ্রে এসে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এবারের নির্বাচনে কার্যনির্বাহী কমিটির ১২টি পদের বিপরীতে দুটি প্যানেল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন বলেন, অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হয়েছে। ব্যবসায়ীরা তাঁদের পছন্দের নেতৃত্ব নির্বাচন করেছেন।