বগুড়ায় তুলা ও টিস্যু দিয়ে নিম্নমানের স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি

প্রকাশ: ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ১৯:২৯ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে বার।

বগুড়ায় অনুমোদন ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের সার্জিক্যাল পণ্য ও স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরির অভিযোগে একটি কারখানাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারখানার অবৈধ উৎপাদন স্থানটি সিলগালা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

 

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বগুড়া মহানগরের ফুলদিঘী উত্তরপাড়া এলাকায় র‍্যাব-১২ বগুড়া ও ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যৌথভাবে এ অভিযান চালায়।

 

ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ফুলদিঘী উত্তরপাড়ার একটি বাসাবাড়িতে অনুমোদন ছাড়াই স্যানিটারি ন্যাপকিন, শিশুদের নেবুলাইজার, ব্রেস্ট ফিডার পাম্পসহ বিভিন্ন সার্জিক্যাল পণ্য তৈরি করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে এর সত্যতা পায় যৌথ দল। পরে প্রতিষ্ঠানের মালিক এমদাদুল হককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং অবৈধ উৎপাদন স্থানটি সিলগালা করা হয়।

 

ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক অনুমোদন ছাড়াই এসব পণ্য তৈরি করছিল। ‘জবা’ ও ‘সেফ কেয়ার’ নামের স্যানিটারি ন্যাপকিনের মোড়কে উৎপাদনস্থল হিসেবে ধামরাইয়ের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়। এটি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪৪ ধারায় প্রতারণার শামিল।

 

মেহেদী হাসান বলেন, ন্যাপকিন তৈরিতে অত্যন্ত নিম্নমানের তুলা ব্যবহার করা হচ্ছিল। এর সঙ্গে সাধারণ ফ্রেশ টিস্যু মুড়িয়ে প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল। এ ধরনের পণ্য নারীদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর।

 

তিনি বলেন, মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

 

র‍্যাব-১২ বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টি ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে জানানো হয়। পরে তাদের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয় এবং ক্ষতিকর পণ্য তৈরির অংশটি সিলগালা করা হয়েছে। তবে অন্যান্য ঝুঁকিমুক্ত পণ্য তৈরির অংশগুলো সচল রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।