নিরাপদ খাদ্য আইনে নওগাঁয় তিন প্রতিষ্ঠানকে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা
নওগাঁ প্রতিনিধি
নিরাপদ খাদ্য আইনে ২০১৩-এর নওগাঁয় তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন খাদ্য উপকরণ জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) নওগাঁ সদর উপজেলার মিষ্টি পট্টি, পুরাতন মাছ বাজার ও বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন নওগাঁ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অভিষেক কান্তি বর্মন এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় আনসার ব্যাটালিয়নের একটি চৌকস দলসহ সংশ্লিষ্ট সাপোর্ট স্টাফরা অভিযানে সহযোগিতা করেন।
অভিযানকালে মেসার্স দত্ত স্টোরে নিষিদ্ধ ঘনচিনি (সোডিয়াম সাইক্লামেট) ও হাইড্রোজ সংরক্ষণ ও বিক্রির পাশাপাশি অননুমোদিত ও মেয়াদোত্তীর্ণ রং ও ফ্লেভার বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া লেবেলবিহীন অননুমোদিত রং এবং অ্যামোনিয়াম সালফেট সংরক্ষণ ও বিক্রির বিষয়ও কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
অন্যদিকে বিসিক শিল্পনগরী এলাকার জিলানী অয়েল মিল ও সুমন অয়েল মিলে অভিযান চালিয়ে সরিষার সঙ্গে ক্যানোলা মিশিয়ে তা সরিষার তেল হিসেবে উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া সরিষার তেলের বোতলে মেয়াদ, ব্যাচ নম্বর, উৎপাদনের তারিখ ও নির্ধারিত মূল্য উল্লেখ না থাকার বিষয়টিও ধরা পড়ে।
এসব অনিয়ম নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর পরিপন্থী হওয়ায় মেসার্স দত্ত স্টোরকে ১ লাখ টাকা, জিলানী অয়েল মিলকে ১০ হাজার টাকা এবং সুমন অয়েল মিলকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। পরে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।
অভিযান শেষে অননুমোদিত ও মেয়াদোত্তীর্ণ রং, ফ্লেভার, সোডিয়াম সাইক্লামেট, হাইড্রোজ ও অ্যামোনিয়াম সালফেট জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অভিষেক কান্তি বর্মন বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী নিয়মিত মামলা করার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।