যে ফ্লাইটে ফেরার কথা ছিল স্বজনদের, সেই ফ্লাইটেই ফিরছে সাতজনের মরদেহ
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রবাসে স্বজনদের স্বপ্ন ছিল, কষ্টের উপার্জনে বদলে যাবে পরিবারের দিন। কিন্তু রিয়াদের সেই আগুন এক মুহূর্তেই পুড়িয়ে দিয়েছে সেই স্বপ্ন। যে ফ্লাইটে ফেরার কথা ছিল স্বজনদের, সেই ফ্লাইটে ফিরছে সাত জনের নিথর দেহ। আজ সাতটি পরিবার অপেক্ষা করছে প্রিয় মানুষের শেষ বিদায়ের জন্য; আর অন্য পরিবারগুলো তাকিয়ে আছে ডিএনএ পরীক্ষার ফলের দিকে কবে ফিরবে তাদের আপনজনের নিথর দেহ।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে শনাক্ত হওয়া নয়জনের মরদেহ আজ বৃহস্পতিবার দেশে ফিরছে। তাদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাতজন। প্রিয়জনের নিথর দেহ শেষবারের মতো দেখতে এখন স্বজনদের অপেক্ষা শুধু সময়ের।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৪০ ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। গত ২৫ আগস্ট রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো চিঠির বরাত দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান।
শনাক্ত হওয়া আত্রাইয়ের সাতজন হলেন, উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ, গন্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, কলিমউদ্দিন ইসলাম, মোহন আলী ও তাঁর ছোট ভাই সুমন আলী, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরকার। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মরুগ্রামের শ্যামল উদ্দিনের পরিচয়ও শনাক্ত হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট রিয়াদের শিফা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণ হারান ১৬ বাংলাদেশি। আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম দফায় নয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে ডিএনএ পরীক্ষা শেষ না হওয়ায় বাকি সাতজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
ফলে প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষায় দিন গুনছেন নিহতদের স্বজনেরা।
আত্রাই উপজেলার মধ্যবোয়ালী গ্রামের নিহত মিনহাজের মা পারুল বিবি বলেন, হামার ছাওয়ালের লাশ নাকি শনাক্ত হয়নি, এজন্য পরে আসবে। সরকারের কাছে আবদার, হামার ছেলের লাশ য্যান দ্রুত নিয়ে আসে। শেষবারের মতো ছেলেটাক এক নজর দেখতে মন স্থির রাখতে পারোছি না।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমন্বয় করে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে মরদেহগুলো বিমানবন্দর থেকে স্বজনদের কাছে বিনা খরচে পৌঁছে দেওয়া যায়। শনাক্ত হওয়া আত্রাইয়ের সাতজনের মরদেহ গ্রহণের জন্য স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার রাতের মধ্যে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছাতে পারে।
ইউএনও বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পর প্রথম দিকে আত্রাই উপজেলার ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও বর্তমানে উপজেলার ১১ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে যাঁদের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে, তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। বাকি মরদেহগুলোও শনাক্ত ও দেশে ফেরাতে প্রশাসনিকভাবে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, বাকি সাতজনের ডিএনএ ম্যাচিং সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের মরদেহও দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।