বগুড়ায় শিক্ষিকাকে বিএনপি সন্ত্রাসী নির্যাতন করছে—এমন দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি ভারতের

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:০৪ ।
দেশের খবর
পঠিত হয়েছে ১৯ বার।

এক নারীকে খোলা জায়গায় প্রকাশ্যে এক ব্যক্তি নির্যাতন করছেন, ১২ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, ‘বগুড়ায় প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকাকে ধর্ষণের পর নির্মম নির্যাতন করছে বিএনপির সন্ত্রাসী মাসুদ।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক প্ল্যাটফর্মে একই রকম দাবিতে ভিডিওটি প্রচার করা হয়েছে।

 

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শুধু ফেসবুক প্ল্যাটফর্মে প্রায় অর্ধশত পেজ ও প্রোফাইলে ভিডিওটি পাওয়া গেছে। ‘মুজাহিদের কান্না’ নামের একটি প্রোফাইল থেকে প্রকাশিত ভিডিওটি প্রায় ১০ লাখ বার দেখা হয়েছে।

 

লিংক: এখানে

তবে যাচাই করে দেখা গেছে, ভিডিওটির সঙ্গে বগুড়ার কোনো ঘটনার সম্পর্ক নেই। এটি ভারতের কনটেন্ট ক্রিয়েটর ভিপিন চৌহানের তৈরি ভিডিও। প্রকৃত প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে ভিডিওটিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।

 

ভিডিওটির মূল উৎস

ভিডিওটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে ‘Vipin Chauhan’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল পাওয়া যায়। একই ব্যক্তির ‘Vipin Chauhan Pro Wrestler’ নামে একটি ফেসবুক পেজও পাওয়া যায়। উভয় প্ল্যাটফর্মেই ভাইরাল ভিডিওটির হুবহু সংস্করণ রয়েছে।

প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক

বগুড়ার ঘটনার সত্যতা কতটুকু

ভিডিওতে যে দাবি করা হয়েছে, বগুড়ায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা যাচাই করতে জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম, টেলিভিশন চ্যানেল এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমে অনুসন্ধান করা হয়। কিন্তু ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো ঘটনা বা প্রতিবেদনের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে ভিডিওটির মূল সংস্করণ ভারতের কনটেন্ট ক্রিয়েটরের প্রোফাইলেই আগে থেকে প্রকাশিত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে ভিডিওটিকে বগুড়ার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের দাবির সঙ্গে মূল উৎসের কোনো মিল নেই।

একই নির্মাতার আরও ভিডিও নিয়ে বিভ্রান্তি

চলতি বছরের জুনে একই নির্মাতার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ভিডিওতে দেখা যায়, লিফটের সামনে একজন নারী বের হওয়ার সময় অপর পাশ থেকে লিফটে প্রবেশে অপেক্ষারত একজন পুরুষের অনিচ্ছাকৃত ধাক্কা লাগে। নারীর হাতে থাকা খাদ্যপণ্যর ব্যাগটি পড়ে যায়। এটা নিয়েই নারী প্রথমে পুরুষটিকে আক্রমণ করে পরবর্তী সময়ে তাদের দুজনের মধ্যে মারামারি বাধে।