নওগাঁয় নকল সার কারখানায় সিলগালা; ২ লাখ টাকা জরিমানা

নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ১৮:৫৮ ।
প্রতিবেশী জেলা
পঠিত হয়েছে ১ বার।

বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ একটি বাড়ি। কিন্তু সেই বাড়ির আড়ালেই দীর্ঘদিন ধরে চলছিল নকল সার ও ভেজাল কীটনাশক তৈরির কারবার। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব নিম্নমানের কৃষি উপকরণ বাজারজাত করে প্রতারণার শিকার হচ্ছিলেন স্থানীয় কৃষকেরা। অবশেষে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সন্ধান মিলেছে এমনই একটি অবৈধ কারখানার। নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার শিবগঞ্জ দরিয়াপাড়া গ্রামের ‘এসডি এগ্রোভেট’ নামের কারখানাটিতে অভিযান চালিয়ে মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং তার ছোট ভাইকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করে কয়েক টন নকল সার, কীটনাশক ও ভেজাল পণ্য তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

 

শনিবার (৭ নভেম্বর) সাড়ে ১০টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন মহাদেবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজ। অভিযানে এনএসআই, এসআরবি ও পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।

অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে গ্রামের ভেতরে অবস্থিত একটি বিশাল বাড়িতে পরিচালিত হচ্ছিল এই অবৈধ কারবার। সেখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা হতো নিম্নমানের ও ভেজাল জৈবসার এবং নকল কীটনাশক। কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য এসব পণ্য বাজারজাত করা হলেও সেগুলোর মান ও কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। প্রয়োজনীয় মান নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ উৎপাদনব্যবস্থার তোয়াক্কা না করেই কারখানাটিতে এসব পণ্য তৈরি করা হচ্ছিল বলে অভিযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

 

কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে সার ও কীটনাশক ফসল উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। কৃষকেরা জমিতে ভালো ফলনের আশায় কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে এসব উপকরণ কেনেন। কিন্তু সেই সার বা কীটনাশক যদি হয় ভেজাল কিংবা নিম্নমানের, তাহলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো ফসলের ক্ষতি ও আর্থিক লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়। এমনকি ক্ষতিকর রাসায়নিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মাটি ও পরিবেশের জন্যও ঝুঁকির কারণ হতে পারে। ফলে কারখানাটির অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এসেছে।

 

অভিযান চলাকালে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে কারখানার মূল মালিক শাহীনূর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে তার অনুপস্থিতিতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া অবৈধ কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগে তাঁর ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

 

অভিযান শেষে কারখানাটির সব কার্যক্রম বন্ধ করে সম্পূর্ণ সিলগালা করে দেওয়া হয়। এ সময় সেখান থেকে কয়েক টন নকল সার ও কীটনাশক ছাড়াও ভেজাল পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও ক্ষতিকর রাসায়নিক জব্দ করা হয়।

 

মহাদেবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজ বলেন, কৃষি উপকরণের নামে ভেজাল পণ্যের উৎপাদন ও বিপণন শুধু একজন কৃষকের আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়। এটি সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন, খাদ্যনিরাপত্তা এবং পরিবেশের জন্যও উদ্বেগজনক। তাই কৃষকদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতে অবৈধ সার ও কীটনাশক উৎপাদন, মজুত এবং বাজারজাতের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি করা হবে।