বগুড়ার দই জিআই পণ্যের মর্যাদা পাচ্ছে

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২২ ২০:১৭ ।
প্রধান খবর
পঠিত হয়েছে ৬৯ বার।

জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন (জিআই) বা ভৌগোলিক নির্দেশক চিহ্ন হিসেবে অনুমোদন পেতে যাচ্ছে  বগুড়ার দই। এ পণ্যের জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়ে কাজ করছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠান পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি)।

ডিপিডিটির উপনিবন্ধক আলেয়া খাতুন বলেন, বগুড়ার দইয়ের জন্য যে আবেদন করা হয়েছিল, তা যাচাই–বাছাই চলছে। প্রক্রিয়াটি শেষ পর্যায়ে আছে। কয়েক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এরপর গেজেট প্রকাশ করা হবে।

সাধারণত একটি নির্দিষ্ট উৎপত্তিস্থলের কারণে কোনো পণ্যের গুণগত মান নিয়ে খ্যাতি তৈরি হলে তাকে জিআই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পণ্যের উৎপত্তিস্থল তথা শহর, অঞ্চল বা দেশের নামে এ নিবন্ধন দেওয়া হয়। তবে এ জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনকে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর বরাবর আবেদন করতে হয়।

নিয়মানুযায়ী, আবেদন আসার পরে তা যাচাই–বাছাই করে ডিপিডিটি। একাধিক প্রতিষ্ঠান একই ধরনের পণ্যের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করলে যৌথ শুনানির মাধ্যমে তা সমাধান করা হয়। এরপর ওই পণ্যের নিবন্ধন অনুমোদন দিয়ে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।

গেজেট প্রকাশের দুই মাসের মধ্যে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা দেশ তাতে আপত্তি না জানালে চূড়ান্ত স্বীকৃতির সনদ দেয় ডিপিডিটি। তখন ওই পণ্যের একক স্বত্ব হয়ে যায় শুধু বাংলাদেশের। সে অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে জিআই সনদ পেলে সারা বিশ্বে বগুড়ার দই  একক ব্র্যান্ডিং তৈরি হবে। এতে দেশের পাশাপাশি বিশ্ববাজারেও পণ্য দুটির প্রতি ক্রেতারা আস্থা পাবেন এবং এগুলোর রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

বগুড়ার দইকে জিআই পণ্য করার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির বগুড়া জেলা শাখা। সংগঠনটি ২০১৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরে (ডিপিডিটি) এ আবেদন করে। তা কয়েক দফায় যাচাই–বাছাই শেষে এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে রয়েছে। ডিপিডিটির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বগুড়ার দই নিয়ে আরও কিছু তথ্য যাচাই করে চলতি সপ্তাহেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির আবেদনে বলা হয়, প্রায় দেড় শ বছর আগে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার নীলকণ্ঠ ঘোষের হাত ধরে বগুড়ার দইয়ের যাত্রা শুরু হয়। বগুড়ার দই ব্রিটেনের দুই মহারানি ভিক্টোরিয়া আর রানি এলিজাবেথও খেয়েছেন। বর্তমানে বগুড়ার দুই শতাধিক দোকানে দই বানানো হয়।

এসব কারখানায় সরাসরি কাজ করেন প্রায় সাত হাজার মানুষ। এ ছাড়া দুধ উৎপাদন, দইয়ের পাত্র (মাটির), মোড়ক ও বাঁশের কাঠামো তৈরির মতো খাতে আরও ১০ হাজার মানুষ জড়িত। বগুড়ার দই ১৫০–২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি মো. রেজাউল করিম  বলেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনানুষ্ঠানিকভাবে বগুড়ার দই পৌঁছে গেছে। ফলে এ পণ্যের রপ্তানির সম্ভাবনা আছে। তবে ট্যারিফ লাইনে দইয়ের নাম না থাকায় রপ্তানি করতে সমস্যা হচ্ছে। পণ্যটি জিআই স্বীকৃতি পেলে আনুষ্ঠানিকভাবে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। সূত্রঃ প্রথম আলো