সিসিইউ থেকে কেবিনে তামিম, দু’দিন পরেই ফিরছেন বাসায়

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৫ ২০:৪৪ ।
খেলাধুলা
পঠিত হয়েছে বার।

ক্রিকেটার তামিম ইকবাল সুস্থ আছেন। এখন অনেক ভালো আছেন। এরিমধ্যে তামিমকে কেবিনে নেয়া হয়েছে। তার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে দু্‌ই দিন পর বাসায় ফিরতে পারবেন বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ওপেনার। তবে দ্রুত সুস্থতার জন্য মেনে চলতে হবে রুটিন। এছাড়া এখন মানসিকভাবে কিছুটা দুর্বল তামিম ইকবাল। তাই দ্বারস্থ হতে হচ্ছে মনোবিদের। 


হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর কোল থেকে ফেরার পর ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তামিমকে সাভারের কেপিজে হাসপাতাল থেকে আনা হয় রাজধানীর পাঁচ তারকা বিশেষায়িত হাসপাতালে এভারকেয়ারে। বৃহস্পতিবার রুটিন চেক-আপের পর সংবাদ সম্মেলনে ইতিবাচক খবর দেন চিকিৎসক আরিফ মাহমুদ। 

তামিমের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা জানান কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র পরামর্শক প্রফেসর শাহাব উদ্দিন তালুকদার। তিনি বলেন, সিসিইউ থেকে কেবিনে নেয়া হয়েছে তামিমকে। খেলার মাঠে ফিরতে সময় লাগবে তিন থেকে চার মাস। 

 

কেপিজে হাসপাতালে তামিমের চিকিৎসা এবং পরিবারের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে প্রফেসর শাহাব বলেন, তামিম ইকবাল ওয়ার্ল্ড ক্লাস অ্যাথলেট। তবে হার্ট অ্যাটাকের পর তাকে মেনে চলতে হবে আরো কঠোর রুটিন। এছাড়া তার শরীরে রক্তজমাট বাধার প্রবণতাও রয়েছে। এটা তার বাবা ও ভাই নাফিস ইকবালেরও।

এমন ধকলের পর তামিম মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন খানিকটা। এতো কম বয়সে হার্ট অ্যাটাক মেনে নিতে পারছেন না কিছুতেই। তাই বারবার ডাক্তারদের সাথে বোর্ড মিটিংয়ে কথা বলেন খান সাহেব। মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জ সামলাতে কাউন্সিলর নিয়োগ করেছেন চিকিৎসকরা।  

বৃহস্পতিবার সকালে রুটিন চেক-আপের অংশ হিসেবে ইকোকার্ডিওগ্রাফ ও অন্যান্য খুঁটিনাটি পরীক্ষা করানো হয় তামিমের। সেসব রিপোর্ট দেখে সবকিছু ভালো থাকার কথা বলেন প্রফেসর শাহাব উদ্দিন।

তিনি বলেন, কিছুক্ষণ আগে আমরা ইকোকার্ডিওগ্রাফ করেছি। হার্টের মুভমেন্ট সামান্য কমেছে। অন্যান্য সবকিছু যেমন আছে, তিনি খুব ভালো জীবনযাপন করতে পারবেন। ক্রিকেটে তিনি ফিরবেন কী ফিরবেন না, সেটা ৩-৪ মাস পর আমরা কার্ডিয়াক টিম ও ফিজিও বসে, তামিমের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে বলতে পারব।


মেডিকেল বোর্ডের প্রধান জানালেন, এত অল্প বয়সে ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক করার ব্যাপারটি মানতে পারছেন না তামিম। তিনি বলেন, তামিমের যেটা হলো, ও এটাকে (হার্ট অ্যাটাক) নিতে পারছে না। সাইকোলজিক্যালি মানতে পারছে না। এটা হবে, সে কল্পনা করতে পারেনি। তবে এটার কিন্তু অনেক ইতিহাস আছে। অনেক খেলোয়াড় মাঠে খেলার সময় মারা গেছে, অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছে।

অন্যান্য চিকিৎসার পাশাপাশি তাই একজন মনোবিদের তত্ত্বাবধানে কাউন্সেলিংও করা হচ্ছে তামিমের। বোর্ড মিটিংয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তামিম খুব ভালো আছেন। খাওয়া-দাওয়া করছেন, সবার সঙ্গে কথা বলছেন। সিসিইউ থেকে তিনি রুমে গেছেন। দুই দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। তারপর তিনি বাসায় যেতে পারবেন।

এর আগে, পর পর দুবার তামিম হার্ট অ্যাটাক করেন বিকেএসপির মাঠে। হার্টবিট পাওয়া যাচ্ছিলো না, দেয়া হয় ডিসি শক। লাইফ সাপোর্টে ছিলেন, পালস পাওয়া যাচ্ছিলো না। প্রায় আধা ঘণ্টা বন্ধ ছিল হৃৎস্পন্দন। কেপিজে হাসপাতালে তামিমকে নেয়া হলে সেখানে এনজিওগ্রাম করানোর পর তার হার্টে ব্লক ধরা পড়ে। তারপরই বসানো হয় রিং। প্রায় রুদ্ধশ্বাস ছয় ঘণ্টা পর জ্ঞান ফেরে তামিম ইকবালের।