বিয়েতে মাংস কম দেওয়ায় বিতর্ক, আলো নিভিয়ে মারধর কনেপক্ষের
পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
লালমনিরহাটে বিয়ের অনুষ্ঠানে মাংস কম দেওয়াকে ঘিরে সংঘর্ষে দুপক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার রাতে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের কাজিচওড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, কাজিরচওড়া গ্রামের একরামুল খাঁনের মেয়ে বীথি আক্তারের বিয়ে ঠিক হয় একই এলাকার মনসুর আলীর ছেলে আল মামুনের সঙ্গে। পূর্ব আলোচনা অনুযায়ী গতকাল বিকেলে বর মামুনকে কেনাকাটা করে দিয়ে বিয়ের আসরে আসার আমন্ত্রণ জানায় কনেপক্ষ। কেনাকাটায় দেরি করায় বরযাত্রীর কনের বাড়িতে যেতে কিছুটা দেরি হয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য ছিল। ২ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বরযাত্রীদের আপ্যায়ন করা হয়। সেখানে পরিবেশনে পর্যাপ্ত জনবল না থাকা ও মাংস কম দেওয়া নিয়ে বিতর্ক বাধে। এর একপর্যায়ে কনের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে বিদ্যুতের আলো নিভিয়ে দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে। এতে অন্ধকারে দুই পক্ষের নারী–শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। এ সময় বরপক্ষের গাড়িও আটকে রাখে কনেপক্ষের লোকজন।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা আহত ব্যক্তিদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ৯ জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন।
বরের ভগ্নিপতি সুজন ইসলাম বলেন, ‘বরযাত্রীর যাওয়ার কথা ছিল ৪০ জন, আমরা গিয়েছিলাম ৩২ জন। এতগুলো মানুষের খাবার পরিবেশন করতে মাত্র দুজন লোক। তার ওপর প্লেটে বালু, বেসিনে পানি নেই। ভাত দিলেও তরকারির খবর নেই। এ নিয়ে একটু কথা–কাটাকাটি হলে কনের চাচা বাড়ির ভেতর থেকে লাঠি এনে আলো নিভিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। তাঁদের অন্ধকারে লাঠির আঘাতে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়েছেন। বেশি আহত হয়েছেন বরপক্ষের লোকজন।’
কনের চাচাতো ভাই নয়ন খাঁন বলেন, ‘বরপক্ষের লোকজন বেশি এসেছিল। তাই খাবার সংকট ছিল। মাঝরাতে কোথাও পাওয়া যাবে না। তাই সামান্য করে সবাইকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ নিয়ে বরপক্ষের একজন খারাপ মন্তব্য করায় মারামারি লাগে। এতে আমাদেরও ৫-৭ জন আহত হয়েছেন।’
লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সোয়াদ হোসেন বলেন, বিয়ের বাড়িতে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ২০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছিলে। কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি গেলেও ৯ জন ভর্তি রয়েছেন।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরনবী বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো পক্ষই কোনো ধরনের অভিযোগ করেনি। অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।