বগুড়ায় হত্যাচেষ্টা মামলায় তিন সাংবাদিককে জড়ানোয় প্রতিবাদ সমাবেশ
শেরপুর( বগুড়া) প্রতিনিধি
জুলাই আন্দোলনের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রথম আলোর বগুড়ার শেরপুর উপজেলা প্রতিনিধিসহ তিন সাংবাদিককে জড়ানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। প্রতিবাদ সমাবেশে অবিলম্বে মামলা থেকে তিন সাংবাদিকের নাম প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রাথমিক তদন্ত ও যাচাই-বাছাই ছাড়া মামলায় সাংবাদিকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করায় বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে।
বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের শেরপুর করতোয়া বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে ঢাকাগামী লেনে আজ সোমবার দুপুর পৌনে ১২টায় এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি শেষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শেরপুরের সম্মিলিত সাংবাদিক জোট ছাড়াও শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাব, শেরপুর থানা প্রেসক্লাব, উত্তরবঙ্গ সাংবাদিক সংস্থা, সাংবাদিক উন্নয়ন সোসাইটি ও বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সব সদস্য অংশগ্রহণ করেন। এ কর্মসূচিতে একাত্মতা পোষণ করেন স্থানীয় বিএনপির নেতারা। এ ছাড়া অংশগ্রহণ করেন শেরপুর শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর, বিভিন্ন ইউপির সদস্যসহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী, ব্যবসায়ী
বক্তারা জানান, জুলাই অভ্যুত্থানকে কলঙ্কিত করতে একটি মামলাবাজ শ্রেণির তৎপরতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৪ আগস্টে বগুড়া শহরে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক চাঁদনী বাজার পত্রিকার শেরপুর প্রতিনিধি শুভ কুন্ডু, দৈনিক প্রথম আলোর শেরপুর প্রতিনিধি সঞ্জীব কুমার ওরফে সবুজ চৌধুরী ও দৈনিক প্রভাতের আলো পত্রিকার বগুড়া জেলা নিজস্ব প্রতিনিধি সাজ্জাদ হোসেন পল্লবকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে
বিজ্ঞা
বক্তারা বলেন, মামলার এজাহারে তিনজনের সাংবাদিক পরিচয় গোপন রেখে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো তদন্ত না করে বাদীর অভিযোগ এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। অথচ তিন সাংবাদিক দীর্ঘদিন ধরে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে সংবাদকর্মে নিয়োজিত এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় জীবনঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ধরনের পদক্ষেপ স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে মনে করেন বক্তা
সম্মিলিত সাংবাদিক জোটের প্রধান সমন্বয়কারী রঞ্জন কুমার দের সভাপতিত্বে এবং ডেইলি অবজারভারের প্রতিনিধি সৌরভ অধিকারীর সঞ্চালনায় প্রতিবাদসভায় বক্তব্য দেন শেরপুর উপজেলা বিএনপির সম্পাদক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম (মিন্টু), পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রশিদ (আপেল), শহর যুবদলের আহ্বায়ক সাবেক কাউন্সিলর শাহাবুল করিম, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি দীপক কুমার সরকার, উত্তরবঙ্গ সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি সরোয়ার জাহান, প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম (বাবলু), দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিন পত্রিকার প্রতিনিধি ইফতেখার আলম ফরহাদ।
আরও বক্তব্য দেন দৈনিক আমার সংবাদ পত্রিকার প্রতিনিধি লিমন হাসান, দৈনিক দেশ প্রতিদিন পত্রিকার প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম, দৈনিক জবাবদিহি পত্রিকার প্রতিনিধি আরিফুজ্জামান হীরা, আনন্দ টিভি জেলা প্রতিনিধি কালবেলা প্রতিনিধি বাঁধন কর্মকার কৃষ্ণ, দৈনিক গণমুক্তি পত্রিকার প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম (জ্যাকি), দৈনিক ভোরের চেতনার প্রতিনিধি আহসান হাবিব প্রমু
উপস্থিত ছিলেন নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ মিলন সরকার, সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, আল মাহমুদ কমল, সনাতন সরকার, শাজাহান মণ্ডল, মেহেদী হাসান (মজনু), এনামুল হক, নাজমুল হুদা (নয়ন), আবু বক্কর সিদ্দিক, সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্যাম, বিমান মৈত্র, দুলাল শেখ, বাদশা আলম, ইউনুস আলী, বিপ্লব মোহন্ত, রায়হান পারভেজ প্রমুখ।