দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নওগাঁয় ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস
নওগাঁ প্রতিনিধি
দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নওগাঁয় ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলায় বইছে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ।
তীব্র শীত জেঁকে বসায় যুবথুবু হয়ে পড়েছে মানুষ। হিমেল হাওয়া ও কুয়াশার কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি । বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় নওগাঁ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে এই জেলায় এবং দেশে সর্বনিম্ন।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই ভোর পর্যন্ত গ্রাম মাঠঘাট পথসহ চারপাশ কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সঙ্গে উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা কনকনে ঠান্ডা বাতাসে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। হাড় কাঁপানো শীতের প্রকোপ আরো বেড়েছে । এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষ, দিনমজুর,শিশু ও বৃদ্ধরা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে ছিন্নমূল মানুষেরা। শীত বস্ত্রের অভাবে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। খরকুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য সংগঠনের পক্ষ থেকে অসহায়ের যুদ্ধের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। তবে তা চাহিদা তুলনায় কম বলে জানা গেছে।
গত কয়েকদিনের প্রচন্ড ঠান্ডায় শীতজনিত নানা রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। জেলার হাসপাতালগুলোতে জনিত নানা রোগে আক্রান্ত রোগীর ভিড় বেড়েছে।
বুধবার সকালে বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এভাবে শীত অব্যাহত থাকলে সার্বিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যহত হবে।
নওগাঁ সদর উপজেলার দোগাছি গ্রামের রিকশাচালক চান মিয়া বলেন, গত ৫দিন সূর্যের দেখা নেই। আজ শীত আরও বেশি। সকালে রাস্তায় যাত্রীই পাওয়া যাচ্ছে না।
সদর উপজেলার বোয়ালিয়া এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম স্বপন জানান, কুয়াশা ও কনকনে বাতাসে শীত কয়েকগুণ বেশি অনুভূত হচ্ছে। গত কয়েকদিনের মধ্যে আজকে সবচেয়ে বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে আসছে না।
দিনমজুর আব্দুস সালাম বলেন তীব্র শীতের কারণে কাজকর্ম নেই বললেই চলে। কোনভাবেই সংসার চালাতে হচ্ছে।
সদর উপজেলার হাপানিয়া এলাকার জয়নাল আবেদীন বলেন, রাতে ঘুমাতে গেলে দুই-তিনটা লেপ-কম্বল ছাড়া উপায় থাকে না।
নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু জার গাফফার বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ঠান্ডাজনিত রোগে শিশু, মধ্য বয়সী ও বয়স্ক মিলে কয়েক শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও টিওপিডি রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় দুই শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে নওগাঁয় শীতের প্রকোপ বাড়তে থাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহায় ও দিনমজুর মানুষের মধ্য শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করা হয়েছে।
নওগাঁ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসার মো. আশেকুর রহমান বলেন, প্রতিটি উপজেলায় অসহায় ছিন্নমূল দিনমজুর মানুষের মাঝে গরম কাপড় বিতরণ করার জন্য ইতোমধ্যে ছয় লাখ টাকা করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। এতে জেলায় ১১ উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৬৬ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং জেলা পরিষদ থেকে ৩০ হাজার ৬০০ পিস কম্বল জেলায় বরাদ্দ এসেছে। যা বিতরণ কার্যক্রম চলমান আছে।
এছাড়া ৭ হাজার ৫শ পিস কম্বল জেলায় বরাদ্দ এসেছে। যা বিতরণের প্রক্রিয়াধীন আছে।
নওগাঁর বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, বুধবার সকাল ৯টায় নওগাঁ জেলায় ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা আরও কমেছে।
উত্তর দিক থেকে হিমেল হাওয়া অব্যাহতসহ কম কুয়াশা ও আকাশ পরিষ্কার থাকলে শীত আরও বাড়তে পারে।