নির্বাচনে অংশ নেয়ার যোগ্যতা হারালেন বগুড়ার বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারী ২০২৬ ১৯:১৫ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে ৫৫০ বার।

ঋণ খেলাপি হওয়ায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার যোগ্যতা হারালেন বিএনপির মনোনিত প্রার্থী বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনের প্রার্থী আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম। উচ্চ আদালতের এক রায়ের মাধ্যমে তাকে পুনরায় ঋণ খেলাপি হিসেবে সাব্যস্ত করা হওয়ায় নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী তিনি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। সূত্র: চ্যানেল টোয়েন্টিফোর 

 

জানা গেছে, বেসরকারি দুটি ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধ না করায় কাজী রফিকুল ইসলাম অন্তত ৭৬৫ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হন। নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি খেলাপি ঋণ পরিশোধ না করে উচ্চ আদালত থেকে একটি স্টে অর্ডার নেন। ওই আদেশে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া হয়, যেন তাকে সিআইবি প্রতিবেদনে ঋণ খেলাপি হিসেবে দেখানো না হয়।

 

তবে ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার এক্সিম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করলে আদালত কাজী রফিকের পক্ষে দেয়া আগের আদেশ স্থগিত করেন। এর ফলে তিনি আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণ খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হলেন।

 

এর আগে ঋণ খেলাপিসহ হলফনামায় নানা অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি এলাকার বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা।

 

এদিকে আদালতের সর্বশেষ রায়ের খবরে এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তাদের অভিযোগ, এক-এগারোর পর বিএনপির দুর্দিনে সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত কাজী রফিক ২০০৬ সালের পর এলাকা থেকে প্রায় উধাও ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে মাত্র দুই দিন এলাকায় গিয়েই ফিরে যান তিনি। দীর্ঘ সতেরো বছরের বেশি সময় দলের নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন চললেও তাকে পাশে পাওয়া যায়নি।

 

স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ডেভেলপার ব্যবসার আড়ালে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যৌথভাবে ব্যাংক লুট ও জমি দখলের মাধ্যমে তিনি হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। গণমাধ্যমে তার ঋণ খেলাপির পরিমাণ ৭৬৫ কোটি টাকা বলা হলেও প্রকৃত অঙ্ক দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি বলে এলাকাবাসীর দাবি।

 

ঋণ খেলাপি, হলফনামায় অসঙ্গতি এবং জমি দখলসহ নানা অভিযোগে প্রার্থী হিসেবে কাজী রফিকের পাশাপাশি দল হিসেবেও বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করেন অনেক ভোটার। আদালতের রায়ে তাকে পুনরায় ঋণ খেলাপি ঘোষণা করায় এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে স্বস্তি ও উৎফুল্লতা দেখা দিয়েছে।