বগুড়ায় প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বার্ষিক কর ও স্যানিটেশন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬ ১৯:৩০ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে ৬১ বার।

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় একটি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অভিযুক্ত শামছুর রহমান উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। তিনি তিন মাস ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে বাসাবাড়ির বার্ষিক কর (ইউপি কর) থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা এবং জাতীয় স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে জমা নেওয়া ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

 

রবিবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন দায়িত্বে ফিরে প্রথম সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হয়। ওই বৈঠকে অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন না। সভায় অংশ নেওয়া সদস্যরা অভিযোগ করেন, ইউপি কর আদায়, স্যানিটেশন প্রকল্প, সরকারি চাল বিতরণ এবং সালিসের টাকা নিয়েও অনিয়ম করেছেন তিনি।

 

 

ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম, মুকুল হোসেন, আক্কাস আলী, ফজলুর রহমান, বেদেনা বেগম, পুতুল রানী ও বিলকিস জাহান জানান, জাতীয় স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় ল্যাট্রিন নির্মাণের জন্য সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে নিয়ম অনুযায়ী ৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। প্রতিটি ওয়ার্ডে ৬ জন করে সুবিধাভোগীর নাম সুপারিশ করা হয়। সদস্যরা বলেন, তাঁরা নিজ নিজ এলাকার মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে প্যানেল চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেন, কিন্তু সেই টাকা সরকারি হিসাবে জমা হয়নি।

 

 

ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা ছিল। সে অনুযায়ী টাকা জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো জমা হয়নি।

 

 

 

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, দায়িত্ব ফিরে প্রথম সভাতেই বিষয়টি সামনে আসে। তিনি বলেন, “জনগণের কাছ থেকে আদায় করা কর ও প্রকল্পের টাকা নিজের কাছে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” এ ঘটনায় অভিযুক্তকে টাকা ফেরত চেয়ে প্রশাসনিকভাবে দুইটা নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। কিন্তু সেই নোটিশও তিনি গ্রহণ করেন নি।  

 

 

বগুড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, জাতীয় স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় শিগগিরই টুইন-পিট ল্যাট্রিন নির্মাণ কাজ শুরু হবে। নন্দীগ্রামের পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ৫৭৫টি ল্যাট্রিন বরাদ্দ রয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ১১৫ জন সুবিধাভোগী পাবেন এ সুবিধা।

 

তিনি বলেন, সুবিধাভোগীদের নির্ধারিত টাকা চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়ার কথা। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে অভিযুক্ত শামছুর রহমান তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, এখন নয়, এক মাস পর কথা বলব।