বগুড়া শহর এড়িয়ে নতুন রেলপথের প্রস্তাব, ডিপিপি প্রণয়নের উদ্যোগ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ ১৮:২০ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে ৩১ বার।

বগুড়া শহরের যানজট কমানো এবং রেল যোগাযোগ আরও নিরাপদ ও আধুনিক করার লক্ষ্যে শহরকে বাইপাস করে নতুন রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথের রাণীরহাট জংশন থেকে বগুড়া শহরে প্রবেশ না করে সরাসরি গাবতলী পর্যন্ত নতুন রেল সংযোগ স্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের কাজও শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

 

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। তাঁর ওই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতেই বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

ডিও পত্রে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কাহালু থেকে বগুড়া শহর হয়ে গাবতলী পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথটি শহরের ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকার মধ্য দিয়ে গেছে। এ পথে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিং রয়েছে। ট্রেন চলাচলের সময় এসব ক্রসিং বন্ধ থাকায় শহরের প্রধান সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জরুরি সেবাও ব্যাহত হয়।

 

 

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রাণীরহাট জংশন থেকে গাবতলী পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হলে বগুড়া শহরের ভেতর দিয়ে ট্রেন চলাচলের প্রয়োজন থাকবে না। একই সঙ্গে কাহালু-রাণীরহাট-গাবতলী রুটে আধুনিক রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী শহরের ভেতরের বিদ্যমান রেলপথ অপসারণ করে সেই করিডোরকে গাবতলী থেকে বগুড়া হয়ে কাহালু পর্যন্ত চার লেন সড়কে উন্নীত করার চিন্তাভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি বগুড়া রেলস্টেশন সংস্কার করে দূরপাল্লার বাস টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহারের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে।

 

 

বগুড়া শহরের চেলোপাড়ার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আবদুল হান্নান বলেন, শহরের মধ্যে রেললাইন থাকায় প্রতিদিনই যানজট তৈরি হয়। নতুন রেলপথ হলে মানুষ যেমন স্বস্তি পাবে, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যও সহজ হবে।

 

শহরের মালতীনগর এলাকার বাসিন্দা ও শিক্ষক রোকসানা পারভীন বলেন, স্কুল-কলেজের সময় রেলক্রসিং বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি হয়। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

 

গাবতলী উপজেলার বাসিন্দা শাহজাহান আলী বলেন, নতুন রেলপথ হলে গাবতলী এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যেন কৃষিজমির ক্ষতি কম হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। 

 

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শহরের অভ্যন্তরে রেলক্রসিংজনিত যানজটের স্থায়ী সমাধান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ আরও গতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন হবে বলেও তাঁদের প্রত্যাশা।